সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফুলজোড়, করতোয়া ও বাঙ্গালী নদীর দূষণ বন্ধে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। বেলার দায়ের করা এক রিট পিটিশনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
রুলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া, মহেশপুর ও চান্দাইকোনা ইউনিয়নের বেড়াবাজুয়া এলাকায় নদীর পানির রং পরিবর্তিত হয়ে দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে এবং পানি সম্পূর্ণভাবে অনুপযোগী হয়ে উঠছে।
এতে এই তিন নদী এবং সংশ্লিষ্ট জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে মাছ মরে ভেসে উঠছে এবং সাপ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, শামুকসহ নানা জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে।
দীর্ঘদিন ধরে অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য নদীতে নিঃসরণের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এর ফলে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
রুলে আদালত জানতে চেয়েছেন, নদী দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী দূষণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর পূর্বে দূষণের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও দূষণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছে বেলা।