
শ্যামল হালদার,রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের বকুলতলা এলাকায় ফুলজোড় নদীতে জমে থাকা বিশাল কচুড়িপানার স্তূপ ঘিরে কয়েকদিন ধরে সৃষ্টি হয়েছিল ব্যতিক্রমধর্মী এক দৃশ্য। নদীর মাঝখানে ভেসে থাকা কচুড়িপানার ওপর গড়ে ওঠে অস্থায়ী ভ্রাম্যমাণ দোকান, যেখানে প্রতিদিন ভিড় করছিলেন নানা বয়সী মানুষ। বিকেল গড়ালেই এলাকাটি যেন রূপ নিত ছোট্ট এক বিনোদনকেন্দ্রে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যাওয়ায় কয়েকদিন ধরে বিপুল পরিমাণ কচুড়িপানা একত্রিত হয়ে বড় আকার ধারণ করে। পরে স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী সেখানে চা, চানাচুর, ফুচকা ও বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের দোকান বসান। নদীর বুকজুড়ে কচুড়িপানার ওপর গড়ে ওঠা এই ব্যতিক্রমী পরিবেশ দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।
তবে পরিবেশবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহল শুরু থেকেই বিষয়টিকে উদ্বেগের চোখে দেখছিলেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন নদীতে কচুড়িপানা জমে থাকলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়, নৌচলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয় এবং জলজ পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
এ অবস্থায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি। পরে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় ফুলজোড় নদীর বকুলতলা এলাকায় জমে থাকা কচুড়িপানা অপসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে নলকা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের তত্ত্বাবধানে অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কচুড়িপানা সরানোর কাজ শুরু হওয়ায় নদীর স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার আশা তৈরি হয়েছে। তারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিয়মিত তদারকি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে নদীটি আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী নদী রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শুধু সাময়িকভাবে কচুড়িপানা অপসারণ নয়, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।