
পারভেজ রহমান,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঘটে যাওয়া একটি ‘কথিত’ ডাকাতির রহস্য উদঘাটন করেছে মিরসরাই থানা পুলিশ। গত ২৩ এপ্রিল ভোরে মিরসরাইয়ের ওয়াহেদপুর এলাকায় যে পণ্য লুটের অভিযোগ উঠেছিল, তা ছিল মূলত কাভার্ড ভ্যান মালিক ও চালকের সাজানো একটি নাটক। এই চুরির ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তারসহ পাচার হওয়া টি-শার্টগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
চুরির নেপথ্যে ছিল অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে রপ্তানিযোগ্য টি-শার্ট নিয়ে কাভার্ড ভ্যানটি চট্টগ্রামের ডিপোর দিকে যাচ্ছিল। পথে চালক দাবি করেন, ডাকাত দল তাদের গতিরোধ করে প্রায় ৭ লাখ টাকা মূল্যের ৬০৯ পিস টি-শার্ট ছিনিয়ে নিয়েছে। কিন্তু পুলিশের জেরার মুখে চালক ফরহাদ আলী স্বীকার করেন যে, মালিক জহিরুল ইসলামের পরিকল্পনা অনুযায়ী মালামালগুলো আত্মসাৎ করার জন্যই এই ডাকাতির গল্প ফাঁদা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃত আসামিরা হলেন— মো. নাজিম মিয়া, মো. হারুন (ভাইসাব), মো. সোহাগ এবং মো. নজরুল ইসলাম। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকলিয়া এলাকার একটি গোপন গুদাম থেকে হারানো সব মালামাল উদ্ধার করা হয়।
মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাদিম হায়দার চৌধুরী জানান, পণ্য লুটের এই নাটকটি অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে সাজানো হলেও পুলিশের তদন্তে তা ধরা পড়ে যায়। মালিক ও চালকের সরাসরি যোগসাজশে এই জালিয়াতি করা হয়েছিল। উদ্ধারকৃত পণ্যগুলো আইনি প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং জড়িত অন্যদের ধরতে তল্লাশি জারি রয়েছে।