
মাসুদ রানা মনি,লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে অগ্নিকাণ্ডে ১১টি বসতঘর ও ছয়টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল হারিয়ে কয়েকটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি বাজারসংলগ্ন ১ নম্বর ওয়ার্ডের আশহক আলী ব্যাপারী বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রফিক উল্যার ছেলে সোহেল নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নিজের ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের বসতঘর ও দোকানগুলোতে। একপর্যায়ে পাশাপাশি থাকা ১১টি বসতঘর ও ছয়টি দোকান আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারাও আগুন নেভাতে সহযোগিতা করেন। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ক্ষতিগ্রস্ত জাবের ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক হোসেন বলেন, আগুনে তাঁর দোকানের বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে গেছে। দোকানের পেছনে থাকা বসতঘরটিও সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। তাঁর দাবি, ওই ঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর স্থানীয়রা সোহেলকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
রায়পুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কারও বসতঘর, কারও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—একসঙ্গে সব হারিয়ে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে পড়েছেন। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার, রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।