
ন্যাশনাল ডেস্ক
বিদ্যুতের বাড়তি বিল, গ্যাসসংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে আগামী ৬ আগস্ট সচিবালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। একই দিনে দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার কার্যালয়ের সামনেও অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে জোটটি। এছাড়া গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারে আগামী মাসে ঢাকা থেকে চার বিভাগে লংমার্চ করা হবে। ১৪ নভেম্বর ঢাকায় হবে মহাসমাবেশ।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয় বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে। জানা গেছে, আগামী ৫ আগস্ট রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত গণসমাবেশ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারের নির্লিপ্ততায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে। ৬ আগস্ট সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে গ্যাস-বিদ্যুত সংকটের প্রতিবাদ জানানো হবে। কর্মসূচি শেষে সচিবালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ৫ আগস্ট রাজধানীতে গণসমাবেশ হবে। জেলা ও উপজেলায় হবে গণমিছিল।
চার বিভাগে লংমার্চ
বৈঠকসূত্র জানায়, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে আগামী মাসে ঢাকা থেকে চারটি বিভাগে ধারাবাহিক লংমার্চ কর্মসূচি নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর রুটে লংমার্চ হতে পারে। ঢাকা-খুলনা রুটের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আর ঢাকা-সিলেট রুটে ট্রেনমার্চ আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জোটের লিয়াজোঁ কমিটি এসব কর্মসূচির চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি সংবিধান সংস্কারের দাবিতে পথসভা, জনসভাসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং সরকারের ওপর সংস্কারের চাপ সৃষ্টি করাই এসব কর্মসূচির লক্ষ্য।
স্থানীয় নির্বাচন
বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সূত্রের দাবি, জামায়াত এককভাবে নির্বাচন করার পক্ষে থাকলেও কয়েকটি শরিক দল জোটগত অংশগ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছে। জোটগতভাবে নির্বাচন না হলে কয়েকটি দল জোট ছাড়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে। এ ছাড়া আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় একটি মহাসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। তবে জোটের নেতারা এ ঘোষণাকে বিশেষ গুরুত্ব না দিলেও ডিসেম্বরের মধ্যে নিজেদের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক প্রস্তুতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে।
বৈঠকে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রঃ দৈনিক কালবেলা।