
ন্যাশনাল ডেস্ক।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার একটি মহিলা হাফেজিয়া মাদ্রাসার পরিচালকের বিরুদ্ধে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ওই কিশোরী মাদ্রাসাটির আবাসিক শাখায় থেকে কোরআন হেফজ করছিল।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে বিয়ের দাবিতে মাদ্রাসার পরিচালক হাছান আলী ডাক্তারের বাড়ির সামনে অবস্থান নেয় সে। প্রায় চার ঘণ্টা সেখানে থাকার পর পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ তৎপর হয়। পরে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি কিশোরীকে থানায় নিয়ে আসেন এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে কিশোরীর বাবা-মা তাকে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পোড়াবাড়ী গ্রামের দিনের দিশারী মহিলা হাফেজিয়া মাদ্রাসার আবাসিক হেফজ শাখায় ভর্তি করেন। মেয়েকে মাদ্রাসায় রেখে তারা কাজের জন্য ঢাকায় চলে যান। মেয়ের পড়াশোনা ও খরচের জন্য প্রতি মাসে মাদ্রাসার পরিচালকের মুঠোফোনে টাকা পাঠাতেন তারা।
কিশোরীর অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস আগে মাদ্রাসার পরিচালক হাছান আলী তাকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দেন। বিষয়টি সে মুঠোফোনে বাবা-মাকে জানায়। তখন পরিচালক নিজের ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
ওই কিশোরী জানান, গত ২৮ আগস্ট ফজরের নামাজের পর সকাল ছয়টার দিকে হাছান আলী তাকে মাদ্রাসার পাশে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করা হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছে কিশোরী।
পরে মুঠোফোনে ঢাকায় থাকা বাবা-মাকে বিষয়টি জানায় সে। ৩১ আগস্ট তারা গাইবান্ধায় এসে মাদ্রাসায় মেয়ের কাছ থেকে ঘটনা শোনেন। এরপর ১ সেপ্টেম্বর সদর থানায় ধর্ষণের অভিযোগ করেন।
কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর প্রায় ১০ দিন পার হলেও মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি মহল বাধা দিয়েছে। ধর্ষণের আলামত নষ্ট এবং অভিযুক্তকে রক্ষা করতে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনেরও চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
কিশোরীর বাবা বলেন, ‘দিনে রাজমিস্ত্রির কাজ করে এবং রাতে রিকশা চালিয়ে মেয়েকে হাফেজ বানিয়েছি। মেয়ের ওপর নির্যাতনের বিচার চাই। অনেকে টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আমি টাকা নিতে চাই না। আমি আমার মেয়ের ওপর নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তের শাস্তি চাই। আমরা গরিব মানুষ, আমরা কি বিচার পাব না?’
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাদ্রাসার পরিচালক নিজেকে জামায়াতের নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। তার ভয়ে অনেকে এ বিষয়ে কথা বলতে চান না। তাদের দাবি, এর আগেও তার ছেলে ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। পরে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার পরিচালক হাছান আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
মামলা নিতে দেরি হওয়ার বিষয়ে সদর থানার ওসি নাজমুল হুদা বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছিল। বর্তমানে ভুক্তভোগী থানায় হেফাজতে আছে। তার ডাক্তারি পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে।’
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিয়ের দাবিতে অনশনে থাকা কিশোরীকে থানায় আনা হয়েছে। ওসিকে মামলা রেকর্ডসহ দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’