
খ ম জায়েদ হোসেন,নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ
বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ আর ভাঙাচোরা সড়ক—এভাবেই চলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর-মাধবপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন অনেকটা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও রোগীবাহী যানবাহনের যাত্রীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত এতটাই গভীর যে যানবাহন চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় স্বজনদের চরম দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। প্রতিদিনই কোনো না কোনো যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নাসিরনগর-মাধবপুর সড়কের ৯ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ১৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসান এন্টারপ্রাইজ। কার্যাদেশ অনুযায়ী, এক বছর ছয় মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২৮ মে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, আগের সড়কটি ছিল ১২ ফুট প্রশস্ত। সংস্কার প্রকল্পের আওতায় সেটি ২২ ফুটে উন্নীত করার কথা। এর মধ্যে ১৬ ফুট ৫ ইঞ্চি পিচঢালাই এবং দুই পাশে তিন ফুট করে সোল্ডার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নাসিরনগর থেকে ফুলপুর পর্যন্ত মাত্র প্রায় তিন কিলোমিটার অংশে কাজ হয়েছে। এরপরও সেই কাজের মান নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নুরপুর, পাঠানিশা, চটিপাড়া, চৈয়ারকুড়ি, জেঠাগ্রাম, শ্যামপুর, পূর্বভাগ, বেলুয়া, নরহা, হরিণবেড় ও হরিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত। যানবাহনগুলোকে এক পাশ থেকে অন্য পাশে এড়িয়ে চলতে হচ্ছে। এতে একদিকে যান চলাচল ধীর হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে গর্ভবতী নারী বা গুরুতর অসুস্থ কাউকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়াটাই বড় ঝুঁকি। দ্রুত রাস্তা ঠিক না হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
এদিকে সড়কটির দুরবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়রা দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করার দাবি জানিয়ে আসছেন। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও একাধিকবার তুলে ধরে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান।
নাসিরনগর উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল মোমেন বলেন, ঠিকাদারের ব্যর্থতার কারণে সংস্কারকাজ বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও তিনি যথাযথভাবে সাড়া দিচ্ছেন না। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা নাসরিন বলেন, “সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ। ঠিকাদার ধীরগতিতে কাজ করছেন। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের দাবি, সংবাদ প্রকাশ ও দীর্ঘদিনের দাবির পর সংস্কারকাজ শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের প্রত্যাশা হতাশায় পরিণত হয়েছে। এখন সড়কটির কাজ দ্রুত ও নির্ধারিত মান বজায় রেখে শেষ করার পাশাপাশি নিম্নমানের কাজের অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এই গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর।