
শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
ভোরের আলো ফোটার আগেই চুয়াডাঙ্গার ঘোড়ামারা ব্রিজের সামনে শুরু হয় ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিদের কিচিরমিচির আর ডানা ঝাপটানোর শব্দে মুখরিত পুরো এলাকা। বিদ্যুতের তার, দোকানের ছাউনি কিংবা ভবনের টিনের চালে দলবেঁধে বসে থাকা শত শত পাখি যেনো অপেক্ষায় থাকে একটি মানুষের জন্য। সেই মানুষটি চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদলের সংগ্রামী ও বিল্পবী সভাপতি শরিফ উর জামান সিজার। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত দুবেলা দোকানের সামনে আসা উড়ন্ত পাখিদের খাবার দিয়ে আসছেন, এ যেন মানুষের প্রতি নিরীহ প্রাণীর বিশ্বাস ও ভালোবাসার নিদর্শন।
চুয়াডাঙ্গার ঘোড়ামারা ব্রিজের সামনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,শরিফ উর জামান সিজারকে দেখেই দলবেঁধে জড়ো হয়ে কিচির-মিচির করতে থাকে শালিকের দল। পাখিপ্রেমী রুটি, বিস্কুটের টুকরো আর চানাচুর ভাজা নিয়ে হাজির পাখিদের আপ্যায়নের। মুহূর্তেই শত শত পাখি নেমে এসে খাবারে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ডাকতে থাকে কিচিরমিচির শব্দে। সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পাখিদের খাবার দেন তিনি। এ সময় পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। এ দৃশ্য দেখে রাস্তায় হেটে যাওয়া মানুষেরাও খানিক থেমে মুগ্ধ হয়ে দেখতে থাকেন পাখির প্রতি ভালবাসা। অনেকে বিষয়টি মোবাইলে ধারণ করতেও দেখা যায়।
এ সময় কথা হয় প্রতিবেদকের, জানতে চান
পশু-পাখির প্রতি ভালবাসার কারণেই দীর্ঘদিন
থেকে বাজার, রাস্তাঘাট, বাসার সামনে আসা পাখি ও অন্য পশুদেরও খাবার খাওয়ান তিনি। এভাবে প্রায় ১৫ বছর ধরে সকালে ও বিকেলে নিয়ম করে পাখিদের খাওয়ান শরিফ -উর জামান সিজার। শালিক ছাড়াও চড়ুই, বানর, কবুতর,বিড়াল,কুকুরকেও খাওয়ান তিনি।
পশু-পাখির প্রতি ভালবাসার কারণ জানিয়ে
চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদলের সভাপতি শরিফ উর জামান সিজার বলেন, ‘আমি আজীবন এটা করে যেতে চাই। প্রতিদিন দুই থেকে তিনশত টাকার খাবার প্রয়োজন হয়। সেই টাকা নিজেই যোগান দেই। যতদিন বেঁচে আছি ততদিন এভাবেই পাখিদের খাওয়াব। মাঝেমধ্যে পাখিরা বিদ্যুতের তারে অসুস্থ হলে সেবা দিয়ে থাকি। ’আল্লাহ যতদিন বাঁচিয়ে রাখছেন ততদিন পাখিদের এভাবে খাওয়াব।পরিবারের সদস্যরাও আমার এই কাজের সঙ্গে একমত।
চুয়াডাঙ্গা বড় সলুয়া নিউ ডিগ্রী কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক ও বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ এ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের সভাপতি আহসান হাবিব শিপলু বলেন, এটা একটা ভালো উদ্যোগ। আল্লাহ ওনার মাধ্যমে পাখিদের রিজিকের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। এই কাজগুলো সবাই করে না। শুধু পাখি না যে কোনো প্রাণীকে খাবার দেওয়া ভালো কাজ, সওয়াবের কাজ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাজান খাঁন বলেন, আমি জানতে পেরে একদিন পাখিগুলো দেখতে গিয়ে ছিলাম। এটা নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। পাখিদের প্রতি ভালোবাসা থেকে কাজটি করছেন। এমন দৃশ্য খুব কমই দেখতে পাই। পাখির প্রতি মানুষের এই ভালোবাসা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। ব্যস্ততম এ বাজারে মানুষের কোলাহলের সঙ্গে পাখির এমন বন্ধুত্ব সবাইকে অবাক করে। আগে পাখিগুলো সকালে খাবার খেয়ে চলে যেত। বর্তমানে পাখিগুলো স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেছে।