
শ্যামল হালদার,রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রহ্মগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী সাবেক ইউপি সদস্য ও বর্তমান প্যানেল ১ দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে ইউনিয়নবাসীর প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে চান।
আব্দুর রাজ্জাক ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের বাশুরিয়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত ও শিক্ষিত মুসলিম পরিবারের সন্তান। তিনি প্রয়াত আব্দুর রহমানের ছেলে। ১০ ভাই-বোনের মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক চতুর্থ। তাঁর বাবা আব্দুর রহমান পেশাগত জীবনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক। তিনি ভোটের মাধ্যমে টানা তিনবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ইউপি সদস্য থাকাকালীন এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে জানান তাঁর সমর্থকরা।
বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, মাদক নির্মূল, সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তি ও বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে বিচার-সালিশের ক্ষেত্রেও তিনি দীর্ঘদিন ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানা গেছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।
আব্দুর রাজ্জাকের উদ্যোগে ও নিজ অর্থায়নে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে নানা কাজ করা হয়েছে বলে তাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। কৃষিজমির জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া, কর্দমাক্ত রাস্তায় রাবিশ ফেলে চলাচলের উপযোগী করা, মসজিদ-মাদ্রাসায় অনুদান প্রদানসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি অংশ গ্রহণ করেন।
এছাড়া মাছ চাষের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন বলেও জানা গেছে। রান্ডিলা বাহাদুর এলাকায় প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বেডফিলিংয়ের কাজ এবং হাসিল বটতলাসহ ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে টিউবওয়েল স্থাপন করেছেন।
রাজনৈতিকভাবে আব্দুর রাজ্জাক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন বলেও তাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির কর্মী হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে।
তাঁর সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কারণে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে আব্দুর রাজ্জাকের একটি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে জনগণের রায়ই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে চান না। জনগণের ভালোবাসা, সমর্থন ও প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নকে আরও উন্নত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তিনি ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আব্দুর রাজ্জাকের আগ্রহ প্রকাশকে ঘিরে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। এখন তাঁর প্রত্যাশা—নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হলে ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের জনগণ তাঁকে তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবেন।