
রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর
উৎসবের দিন মানেই আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর নতুন স্বপ্নের শুরু। বাংলা নববর্ষেও তার ব্যতিক্রম ছিল না—রাণীশংকৈলের ঘরে ঘরে বইছিল বৈশাখের প্রাণের ছোঁয়া। কিন্তু সেই উৎসবের মাঝেই হঠাৎ নেমে এলো এক অপ্রত্যাশিত শোক, যা মুহূর্তেই স্তব্ধ করে দেয় পুরো জনপদকে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে রাণীশংকৈল পৌর শহরের কলেজ হাট এলাকায় ঘটে যায় হৃদয়বিদারক এক দুর্ঘটনা। একটি জরাজীর্ণ সীমানা দেয়াল ধসে প্রাণ হারায় চার বছর বয়সী শিশু মুবাশ্বিরা।
সে স্থানীয় আসবাবপত্র ব্যবসায়ী মুনজুর আলমের মেয়ে।জানা গেছে, নববর্ষের আনন্দে নতুন পোশাক পরে বাড়ির সামনেই খেলছিল মুবাশ্বিরা। পাশেই ছিল প্রতিবেশীর একটি পুরনো ও নড়বড়ে দেয়াল, যা দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। হঠাৎ কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই দেয়ালটি ভেঙে পড়ে তার ওপর। ঘটনাটি ঘটে এত দ্রুত যে কিছু বুঝে ওঠার আগেই শিশুটি ইটের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হয়।স্থানীয়রা তড়িঘড়ি করে তাকে উদ্ধার করে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী জানান, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এদিকে, বৈশাখের আনন্দমুখর দিনে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে শিশুটি সকালে হাসিমুখে উৎসব উদযাপন করছিল, বিকেলেই তার নিথর দেহ ফিরে আসে বাড়িতে—এ দৃশ্য যেন কেউ মেনে নিতে পারছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা দেয়ালটি নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অবহেলা আর উদাসীনতার ফলেই আজ একটি পরিবার হারিয়েছে তাদের আদরের সন্তানকে।নববর্ষ মানেই নতুন সূচনা—কিন্তু রাণীশংকৈলে এ বছর সেই সূচনা হয়ে রইলো এক গভীর বেদনার স্মারক হয়ে। আনন্দ আর শোকের এই নির্মম মিশ্রণ যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়—সামান্য অসতর্কতাই কখনো কখনো ডেকে আনতে পারে অপূরণীয় ক্ষতি।