
ন্যাশনাল ডেস্ক
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। জনগণের গণরায় ও প্রত্যাশার বাস্তবায়নে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক স্থিরচিত্র প্রদর্শনী ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’-এর উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জিত হলেও জনগণের সার্বভৌমত্বের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশের মানুষ নতুন পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা আজও পূরণ হয়নি।
বর্তমান সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, বেপরোয়া দলীয়করণ, সন্ত্রাস ও সহিংসতার পথ থেকে ফিরে এসে জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও যোদ্ধাদের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
শিক্ষাঙ্গনে সাম্প্রতিক সহিংসতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, রামদা, হেলমেট ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসের যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা কোনোভাবেই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ হতে পারে না। শিক্ষাঙ্গনের পবিত্র পরিবেশকে কলুষিত ও রক্তাক্ত করা বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে মানুষের বিবেককে নাড়া দেওয়ার জন্য। এখানে কোনো ফিল্টার বা রেস্ট্রিকশন নেই; জনগণ এসে প্রদর্শনী দেখবেন এবং নিজেদের অভিমত ব্যক্ত করবেন। শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাইয়ের শহীদদের উদ্দেশে লেখা চিঠিগুলোও প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে। এসব চিঠি পাঠ করে নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, কোনো ব্যক্তি বা ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত না করে জনপ্রত্যাশা ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের জন্য লড়াই চলবে। এ লড়াই কোনো দলের জন্য নয়; বরং ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ নিশ্চিত করার জন্য। জনগণ, বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সহকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানটি ৬ ও ৭ আগস্ট সকাল ১১টায় শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, কূটনীতিক সাকিব আলী, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. দিলারা জামান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রুবি আমাতুল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল ও সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আবদুল মান্নান ও কামাল হোসেন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, জামায়াত নেতা সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ব্যবসায়ী এনায়েতুল্লাহ চৌধুরী, জামায়াত নেতা হাফেজ রাশেদুল ইসলাম।