
সোহেল খান দূর্জয়,নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার সাতগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুর কামাল তালুকদারের বিরুদ্ধে মেডিকেল ছুটি নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে প্রায় দুই মাস ধরে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে। তার ছেলে দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকেন বলে জানা গেছে। এদিকে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রধান শিক্ষক মো. নুর কামাল তালুকদারকে অর্ধগড় বেতনে বহিঃবাংলাদেশ ভ্রমণের জন্য ১৫ দিনের শর্ত সাপেক্ষ ছুটি দেওয়া হয়। প্রাথমিক শিক্ষার ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে তাকে ছেলের সঙ্গে দেখা করতে ১৫ দিনের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।তবে ওই অফিস আদেশে বিদেশ যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক নুর কামাল তালুকদার ওই ছুটির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টার কর্মকর্তা বা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত না করে পরবর্তীতে আরও তিন মাসের মেডিকেল ছুটির আবেদন করেন।
এদিকে সূত্র জানায়, আগের বিদেশ ভ্রমণের ছুটির বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার জানা না থাকায় তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ জুলাই এক মাসের মেডিকেল ছুটি মঞ্জুর করা হয়। এরপর থেকেই তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় সহকারী শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব পড়েছে। শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানান তারা। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাকলি ও ময়না আক্তার বলেন, “প্রধান শিক্ষক প্রায় দুই মাস ধরে বিদ্যালয়ে আসেন না। আমরা শুনেছি তিনি মেডিকেল ছুটিতে আছেন। আবার এও শুনেছি, তিনি ছেলের কাছে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করছেন। স্যার না থাকায় বিদ্যালয়ের অনেক কাজ করতে আমাদের সমস্যা হচ্ছে। শ্রেণি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখলেও প্রশাসনিক অনেক কার্যক্রম করা সম্ভব হচ্ছে না।” তারা আরও জানান, প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তারা কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারছেন না।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. নুর কামাল তালুকদারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। খালিয়াজুড়ি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু রায়হান বলেন, “বিদেশ গমনের জন্য ১৫ দিনের ছুটির কথা না জানিয়েই ওই প্রধান শিক্ষক তিন মাসের মেডিকেল ছুটির আবেদন করেন। তার প্রেক্ষিতে এক মাসের ছুটি মঞ্জুর করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি, তিনি তার ছেলের কাছে দক্ষিণ কোরিয়ায় আছেন।” তিনি আরও বলেন, “নির্ধারিত ছুটি শেষ হওয়ার পরও তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পত্র পাঠানো হবে।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল আজম বলেন, “আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। মেডিকেল ছুটি নিয়ে বিদেশ ভ্রমণ করলে তিনি বিধিমালা ভঙ্গ করেছেন। আমি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বেতন-ভাতা বন্ধসহ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি দেখব।