
সোহেল খান দূর্জয়,নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি খাদ্য গুদামের (এলএসডি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদফতর। কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন ও ধান সংগ্রহে অনিয়ম এবং একই ব্যক্তির কাছ থেকে একাধিকবার ধান সংগ্রহ করে বিল পরিশোধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
খাদ্য অধিদফতরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্র স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে গত ৩১ আগস্ট মেহেদী ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের টেলিফোনিক নির্দেশনার পর নেত্রকোনার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিরিশিরি খাদ্য গুদাম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন ও পরবর্তী যাচাইয়ে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়।
তদন্তে কৃষি বিভাগ থেকে পাওয়া আগ্রহী কৃষকদের তালিকা যথাযথভাবে প্রণয়ন না করার বিষয়টি উঠে আসে। তালিকায় কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকায় যাচাই-বাছাই কঠিন হয়ে পড়ে। একই নাম একাধিকবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার তথ্যও পাওয়া যায় বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কৃষি বিভাগের প্রত্যয়ন নিয়ে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের নিয়ম থাকলেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। শুধু জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে এবং কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে কৃষক শনাক্ত না করেই ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে মেহেদী ইসলাম একটি সিন্ডিকেটের সহায়তায় ধান সংগ্রহ করেছেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।
এ ছাড়া রেজিস্টার ও কৃষি বিভাগের তালিকা পর্যালোচনায় অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ নীতিমালা-২০১৭ লঙ্ঘনের তথ্য পাওয়া গেছে। একই ব্যক্তির কাছ থেকে একাধিকবার ধান সংগ্রহ ও বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। এ ক্ষেত্রে দুর্গাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের যথাযথ তদারকি ছিল না বলেও এতে বলা হয়েছে।
এর আগে মেহেদী ইসলামকে বরিশালের উজিরপুরে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগের তদন্ত ও বিভাগীয় কার্যক্রম চলমান থাকায় তাকে চাকরিতে বহাল রাখা সমীচীন মনে করেনি কর্তৃপক্ষ। প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।
এদিকে গত ৯ সেপ্টেম্বর খাদ্য অধিদফতরের উপসচিব মো. মাহাবুর রহমান শেখ স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে নেত্রকোনার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানকে বদলি করা হয়। তাকে ঢাকা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত সহকারী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে মোয়েতাছেমুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ধান সংগ্রহে অনিয়মের কারণেই গুদাম কর্মকর্তা মেহেদী ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নিজের বদলির বিষয়ে তিনি বলেন, এটি নিয়মিত বদলি এবং বিরিশিরি খাদ্য গুদামের ঘটনার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
অন্যদিকে, বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা মেহেদী ইসলামের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, চলতি বছর নেত্রকোনার মদন উপজেলায় সরকারি চাল নিয়ে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। গত ১৪ মে রাতে পাচারের সময় ২০ টন সরকারি চাল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও গুদাম কর্মকর্তাকে বরিশালে বদলি করা হয়। পরে ৪ সেপ্টেম্বর একই উপজেলায় পাচারের সময় আরও ৫ টন সরকারি চাল জব্দ হয়। দুটি ঘটনায়ই থানায় মামলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া গত বছরের ২১ জুন কেন্দুয়া উপজেলায় ১৩ হাজার ৫১৫ কেজি সরকারি চাল জব্দ করেছিল সেনাবাহিনী।