
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি।
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দিনভর সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপে সিরাজগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত করা হয়। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টা থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের ইলিয়ট ব্রীজ, এসএস রোড, মুজিব সড়ক, বাহিরগোলা রোড জুড়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
তবে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ জানাতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ ও বিএনপি শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেও সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ ও সূত্র পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের ১৫/২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন, মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাইদুর রহমান বাচ্চু ও হাজী আব্দুস সাত্তার সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবকদলের একটি গ্রুপ একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি ইলিয়ট ব্রীজ এলাকায় এলে বিএনপির অপর গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। ধীরে ধীরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পরে এসএস রোড, মুজিবসড়কসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ রোডগুলোতে।
উভয়পক্ষ ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুরো শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে কয়েকঘণ্টা পর সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ হয়।
শহর যুবদলের সহ-সভাপতি সোহান আহমেদ শামীম এক ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, আমরা যখন ছাত্রলীগ-যুবলীগের বিরুদ্ধে মিছিল করছি তখনই সাইদুর রহমান বাচ্চু ও ছাত্রদল সভাতি সবুজের লোকজন আওয়ামী লীগের টাকা খেয়ে আমাদের ওপর হামলা করেছে। ঠিক তখনই আমরা সিরাজগঞ্জের যুবদল স্বেচ্ছাসেব দল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ দাঁতভাঙ্গা জবাব দেই।
এদিকে সংঘর্ষের সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর পুরাতন পোস্ট অফিস রোডস্থ বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, আমি বগুড়ায় অবস্থান করছি। বিস্তারিত কিছু বলতে পারবো না। দুপুরের দিকে আমার বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, হাজী আব্দুস সাত্তারের লোকজন সংঘবদ্ধভাবে ঢুকে শহরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির করেছে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে হাজী আব্দুস সাত্তার বলেন, আমি এই সংঘর্ষের ব্যাপারে কিচ্ছু জানিনা।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো রাকিবুল হাসান জনান, কেন কি নিয়ে সংঘর্ষ সে বিষয়ে বলতে পারবো না। তবে সংঘর্ষের পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।