
শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি।
এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ২০ বছর বয়সী শাকিবুল ইসলাম তন্ময়। ঢাকায় ভর্তি কোচিং করার সময় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানতে হয়েছে এই মেধাবী তরুণকে। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও বন্ধুদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
শাকিবুল ইসলাম তন্ময় চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেলগাছি রেলগেট এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা তারিকুল ইসলাম। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন তন্ময়। এরপর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে ঢাকায় গিয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। সেখানেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন তন্ময়। পরে অসুস্থ অবস্থায় গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন এবং চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হলে গতকাল মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। তবে রাজশাহী নেয়ার পথে নাটোরের লালপুর এলাকায় পৌঁছালে দুপুর আড়াইটার দিকে তন্ময়ের মৃত্যু হয়। তরুণ এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর চুয়াডাঙ্গায় পৌঁছালে তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন, সহপাঠী ও বন্ধুবান্ধবের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায়ও নেমে আসে বিষাদের আবহ। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গার জান্নাতুল মাওলা কবরস্থান মসজিদে তন্ময়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখানেই তাকে দাফন করা হয়। তন্ময়ের মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিলো, ডেঙ্গুকে কোনোভাবেই সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে শরীরব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি, প্রচণ্ড দুর্বলতা কিংবা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়ার পরও ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর একটি হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, নির্মাণসামগ্রীসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে সেগুলো পরিষ্কার রাখা এবং দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকা জরুরি। একজন সম্ভাবনাময় তরুণের এমন অকাল মৃত্যু পরিবারটির জন্য যেমন অপূরণীয় ক্ষতি, তেমনি সমাজের জন্যও একটি সতর্কবার্তা।
ডেঙ্গুকে অবহেলা নয়-সচেতনতা, দ্রুত চিকিৎসা ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।