1. thedailydrishyapat@gmail.com : TheDaily Drishyapat : TheDaily Drishyapat
  2. info@pratidinerdrishyapat.com : Pratidiner Drishyapat : Pratidiner Drishyapat
  3. admin@thedailydrishyapat.com : admin :
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ন

ঝালকাঠিতে ১২ শিক্ষার্থীর ১৩ শিক্ষক, এসএসসিতে পাস মাত্র ১ জন

সংবাদ প্রকাশক:
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ Time View

 

 

রাজীব কুমার মালো,ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ

 

 

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার এস.জিএস. সেকেন্ডারি বিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন। অথচ এসব শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য বিদ্যালয়টিতে কর্মরত রয়েছেন ১৩ জন শিক্ষক। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার এমন ফলাফলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এস.জিএস. সেকেন্ডারি বিদ্যালয়ে ১৩ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া ক্লার্ক, পিয়নসহ চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন আরও পাঁচজন। শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে বিদ্যালয়টিতে মোট জনবল ১৮ জন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি যেমন কম, তেমনি শিক্ষক উপস্থিতি ও পাঠদান নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। কাগজ-কলমে বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত পাঁচ-ছয়জনের বেশি শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে দেখা যায় না বলে দাবি স্থানীয়দের।

 

সম্প্রতি বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্লাস চলাকালীন কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের মাঠে ফুটবল খেলছে। ছাত্রীদের অধিকাংশই বিদ্যালয়ে নেই। আর কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বসে গল্প করতে দেখা যায়। এ সময় শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদানের পরিবেশও চোখে পড়েনি।

 

স্থানীয়দের দাবি, একসময় বিদ্যালয়টির ফলাফল ভালো ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে শিক্ষক সংখ্যা বাড়লেও শিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিতভাবে বাড়েনি। নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি হয়ে যাওয়া, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং পাঠদান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে বলে জানান তারা।

 

গত বছর ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায়ও বিদ্যালয়টি থেকে ছয়জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনজন পাস করেছিল। আর এবার ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ১২ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র একজন। ফলে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

 

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রহিমা আক্তার বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে স্থানীয়রা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে দিতে চান না। শ্রেণিকক্ষের ভেতরেও অনেক সময় আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস নিতে হয়। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসায় পড়ালেখার মান খারাপ হয়েছে এবং ফলাফলও খারাপ হয়েছে।”

 

ক্লাস চলাকালীন শিক্ষার্থীদের মাঠে খেলাধুলা করা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। উপজেলা পর্যায়ে খেলাধুলা চলায় শিক্ষার্থীরা মাঠে রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে অন্য শিক্ষার্থীদের কেন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

 

এ বিষয়ে ঝালকাঠির জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু ছাঈদ বলেন, “খোঁজ নিয়ে দেখব কী কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফেল করেছে। বর্তমানে ঢাকায় আছি। পরে বিস্তারিত বলতে পারব।”

 

স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলার দায়িত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের নয়; বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদেরও। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ খুঁজে বের করার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, নিয়মিত পাঠদান এবং সরকারি বেতন-ভাতার বিপরীতে শিক্ষার মান—সবকিছু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও মান ফিরিয়ে আনবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
প্রতিদিনের দৃশ্যপট ২০২৪
Theme Customized BY Kh Raad (FriliX Group)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com