
রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা-এ দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের পুকুরখুড়ি খাল এবং লক্ষীটারী ইউনিয়নের চর ইশরকুল খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়হান সিরাজী। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ রুহুল আমিন, গোলাম কিবরিয়া, জেসমিন আক্তার এবং হামিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু মো. আলেমুল বাসার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজিবুল করিম, গঙ্গাচড়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হানিফ সরকার, লক্ষীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদি, বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামসুল হুদা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা আমির মাওলানা নায়েবুজ্জামান, গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আলিম প্রামাণিকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে লক্ষীটারী ইউনিয়নের জয়রামওঝা মৌজার ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে চর ইশরকুল খালের ২ হাজার ৫০০ মিটার অংশ পুনঃখনন করা হবে। এ প্রকল্পে ১৪৯ জন উপকারভোগী শ্রমিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। প্রকল্পে শ্রমিক মজুরি বাবদ ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ১৭৫ টাকা, নন-ওয়েজ কস্ট বাবদ ৩২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৪৪ টাকা এবং সর্দার মজুরি বাবদ ৪ হাজার ৩০০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে বড়বিল ইউনিয়নের দক্ষিণ পানাপুকুর মৌজার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পুকুরখুড়ি খালের ২ হাজার ১৬০ মিটার অংশ পুনঃখনন করা হবে। এ প্রকল্পে ১২৮ জন উপকারভোগী কাজ করবেন। এতে শ্রমিক মজুরি বাবদ ২৭ লাখ ৬২ হাজার ৩৫৯ টাকা, নন-ওয়েজ কস্ট বাবদ ২৭ লাখ ৯৯ হাজার ৩১২ টাকা এবং সর্দার মজুরি বাবদ ৪ হাজার ৩০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “প্রকল্পের প্রতিটি কাজ প্রশাসনের কঠোর তদারকিতে পরিচালিত হবে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় সুষ্ঠুভাবে কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।”
রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, “খালগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হবে।”
সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, “খাল পুনঃখননের ফলে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে, কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।”
উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার বলেন, “খাল খনন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ। পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও খাল পুনঃখনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।”
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হতো। খাল পুনঃখননের ফলে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরে আসবে এবং কৃষি ও মৎস্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।