
দৃশ্যপট ডেক্স রির্পোট
“পৃথিবীর সুরক্ষায় কাজ করি স্থানীয় পর্যায়ে” (Acting locally for global impact)—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুক্রবার (২২ মে) বগুড়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ)-এর আয়োজনে এবং স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় দিবসটি উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সকাল ১০ টায় দিকে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের প্রধান ফটক থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি শুরু হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলেজের সেমিনার কক্ষে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবসের আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন,বিবিসিএফ এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরাফাত রহমান।
উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ,বগুড়া-এর সম্মানিত অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো.বেল্লাল হোসেন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন,বিশ্ব বিবেক, রাষ্ট নায়কেরা যখন যুদ্ধ বিগ্রহ,শিল্পায়নের মাধ্যমে ধ্বংস করছে তখন আমাদের মত দেশের শিক্ষার্থীরার,স্বেচ্ছাসেবকেরা প্রাণ প্রকৃতি রক্ষা ভাবছে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কাজ করছে।
বাংলার লোকজ সংস্কৃতি জীববৈচিত্র্য প্রাণ প্রকৃতি পূর্ণ। আমাদের লোকজ সংস্কৃতি রক্ষার জন্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয় রোধে স্থানীয় পর্যায়ে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। আমাদের চারপাশের প্রকৃতি ও প্রাণীকুলকে টিকিয়ে রাখতে না পারলে মানবসভ্যতা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।”
অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বন বিভাগ,বগুড়া-এর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো.মতলুবুর রহমান। তিনি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের আইনি ও প্রায়োগিক দিক এবং বন অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশংসনীয় উদ্যোগের কথা তুলে ধরে স্থানীয় তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ রক্ষায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া-এর উপাধ্যক্ষ মো.শামসুল আলম।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন,পৃথিবীর মানুষের শুধু ভোগবাদী লালসার কারণে প্রতিনিয়ত প্রকৃতি ধ্বংস করছে, সুন্দরবনের মত ইকোসিস্টেমে করপোরেট ভোগবাদী, পুঁজিবাদী প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করছে। স্বেচ্ছাসেবীরা আমাদের ক্যাপ্টেন প্লানেট।
অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন বিবিসিএফ-এর উপদেষ্টা প্রফেসর ড. এস. এম. ইকবাল।
তিনি আয়োজক ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় বিবিসিএফ-এর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আরও বক্তব্য রাখেন,মোঃ মাসুম মিয়া, রাষ্টবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক মুনসুর সরকার বিবিসিএফ এর সহ প্রচার সম্পাদক সোহাগ রায় সাগরসহ অনেকেই।
উল্লেখ্য,এবারের আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছে ওয়েস্ট বাংলাদেশ,গ্রীন ফাউন্ডেশন, পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থা (শেরপুর), ওয়াইল্ড লাইফ লাভার, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কমিটি (গাবতলী), স্যানো (SANO) ও স্বপ্ন-সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ। সমাপনী বক্তব্যে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য যার যার অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণ ও বন্যপ্রাণী শিকার বন্ধ করার ব্যাপারে সকলে ঐকমত্য প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন,বিবিসিএফ এর সহ সভাপতি অধ্যাপক ফজলে বারী রতন।