
শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
কারাগার এখন আর দুঃখ, কষ্ট বা সাজা ভোগ করার জায়গা নয়। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ আর দক্ষ ব্যবস্থাপনায় এটি হয়ে উঠেছে ক্রমশ সংশোধনাগার হিসেবে। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা কারাগারে হাজতি, কয়েদি ও দর্শনার্থীদের আগের মতো দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে না। এ কারাগারে নিয়মিত বন্দিদের কাছ থেকে তাদের খোঁজ-খবর নিয়ে অভাব-অভিযোগ শুনে তা সমাধান করছেন জেলার।
এ ছাড়াও জেলা প্রশাসক, দায়রা জজসহ সরকারি ও বেসরকারি কারা পরিদর্শকগণ নিয়মিতভাবে কারাগার পরিদর্শনের ফলে বন্দিদের কারা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ৯ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠা করা হয় এই কারাগারটি । ৭৯০ পুরুষ ও ২৭ জন নারী বন্দি এ কারাগারে রয়েছে। ১ তলা ও ২ তলা বিশিষ্ট ভবন। কারাগারে ৮টি বন্দি ভবন, ২০ বেডের ১টি কারা হাসপাতালে সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসক নিয়োজিত রয়েছে। ১টি কিশোর ওয়ার্ড, ১টি লাইব্রেরি, ২৪টি সেল, ১টি ক্যান্টিন ও জেলা সুপারের জন্য আবাসিক ভবন এবং পুরুষ ও নারী কারারক্ষীদের জন্য রয়েছে পৃথক পৃথক ব্যারাক।
বর্তমান এ কারাগারে জেলারসহ মোট ৯০ জন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্বে রয়েছেন। এদের মধ্যে ৮০ জন পুরুষ কারারক্ষী ও ১০ জন মহিলা কারারক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।আগের তুলনায় কারাগারের দৃশ্যপট পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন জেলার।
সম্প্রতি তিন বছর কারাভোগের পর এ কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ায় এক বন্দি কারাগারের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানান, গত কয়েক মাস যাবত কারাগারের খাবারসহ সব কার্যক্রমে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে কারাগারে এসে কঠোর নিয়মানুবর্তিতায় যেকোনো ধরনের দাগি আসামি হোক না কেন কোনো অপকর্মের সুযোগ নেই।
জেলার মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ২০ দিনে কারাভ্যন্তরকে সম্পূর্ণভাবে মাদক মুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও কারাভ্যন্তরে অবৈধ দ্রব্যাদি রোধে নিয়মিত তল্লাশিসহ সন্দেহভাজন বন্দি ও স্টাফদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কারা ক্যাম্পাসকে মোবাইল ফোনমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হতদরিদ্র বন্দিদের আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বন্দিদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান জেলার। আগে চিত্তবিনোদনের সুযোগ সীমিত থাকলেও বর্তমানে প্রতিটি ওয়ার্ডে টেলিভিশন দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রয়েছে ক্যারাম খেলার সুযোগ। শরীর সুস্থ রাখতে ব্যায়াম ও শরীরচর্চার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এ ছাড়াও বন্দিদের শরীর ঠিক রাখার জন্য ব্যায়াম ও শরীর চর্চার ব্যবস্থা রয়েছে। কারাগারের পরিবেশকে সুন্দর করার জন্য চারপাশে বিভিন্ন ধরনের ফুলের বাগান, বন্দিরা বসে আনন্দে সময় কাটানোর জন্য পাকা পাঠাতনের বেঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, বন্দিরা সাজা শেষে যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন। এ জন্য নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে নিজ নিজ ধর্ম পালনের সুযোগ রাখা হয়েছে। সংশোধন ও পুনর্বাসনমূলক এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বন্দিদের অপরাধপ্রবণতা কমিয়ে সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে।