শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর শিল্পাঞ্চল। রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার হাজারো শ্রমিক। এ সময় কয়েকটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বিভিন্ন পোশাক কারখানা থেকে বেরিয়ে শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় উপজেলার বেশ কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হলেও শ্রমিকেরা সড়ক ছাড়েননি। একপর্যায়ে তাঁরা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় একটি প্রাইভেটকারসহ কয়েকটি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়। এ ছাড়া ট্রপিক্যাল নিটেক্স লিমিটেডের পাশের একটি মার্কেটে অগ্নিসংযোগ, যমুনা ব্যাংক ও বিভিন্ন কারখানার ফটকে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মৌচাক পুলিশ বক্সেও ভাঙচুর চালানো হয়। কোনাবাড়ী পুলিশ বক্স ও আনসার একাডেমির সামনে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শ্রমিকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ইটের আঘাতে আহত হন ওসি মো. শহিদুল ইসলাম। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের শান্ত করা এবং মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করতে গিয়ে তিনি আহত হয়েছেন। তিনি সহিংসতা ও ভাঙচুর পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান।
এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দূরপাল্লার যাত্রীসহ নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন কর্মজীবী মানুষও।
পুলিশ, বিজিবি ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় প্রায় ছয় ঘণ্টা পর বিকেল পৌনে ৩টার দিকে মহাসড়ক থেকে অবরোধ সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এ বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় কালিয়াকৈর শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অবরোধ প্রত্যাহারের পরও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে।