
খ,ম,জায়েদ হোসেন,নাসিরনগর( ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ, পুর্বভাগ, হরিপুর,কুন্ডা ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত জনগুরুত্বপূর্ণ ‘কুকুরিয়া খাল’ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় লাখো মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে রয়েছে। খালটির ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি বহুদিনের হলেও এখনো তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। ফলে চার ইউনিয়নের বাসিন্দাদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি ও ভোগান্তি নিয়ে খাল পারাপার করতে হচ্ছে।
চার ইউনিয়নের সংযোগস্থলে বয়ে যাওয়া কুকুরিয়া খালটি এলাকার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীসহ হাজারো শ্রেনিপেশার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। তবে বর্ষা মৌসুমে খালের পানির স্রোত বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং নৌকাই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি সেতুর অভাবে বছরের পর বছর ধরে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সামান্য একটি সেতু নির্মাণ হলে চার ইউনিয়নের লাখো মানুষের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হবে। তাই তারা দ্রুত সরকারি উদ্যোগে এই খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
ইতোমধ্যেই গোকর্ণ কুকুরিয়া খালে ব্রীজ নির্মাণের দাবীতে জাতীয় সংসদে জোড়ালো বক্তব্য প্রদান করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১( নাসিরনগর) সংসদীয় ২৪৩ আসনের সংসদ সদস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য জননেতা এমপি এম এ হান্নান।
জানাযায়, ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে পাউবো এ খালের ওপর ৩৯ মিটার দীর্ঘ সেতু ও ছয় কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে। ২০২২ সালের বন্যায় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঐ বছরেই সাপোর্ট টু রুরাল ব্রিজেস প্রকল্পের আওতায় ৬৯ মিটার নতুন সেতু নির্মাণের জন্য সাত কোটি টাকার একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়। ‘অর্থ সংকট’ দেখিয়ে সেই প্রস্তাব পাস করা হয়নি। এরপরও কয়েকবার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সাড়া মেলেনি।
গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ শাহীন বলেন, ‘উপজেলা থেকে জেলা পর্যন্ত গিয়ে দাবি জানিয়েছি। জরুরি প্রকল্প তালিকায় নামও উঠেছে। কিন্তু চার বছরেও দরপত্র হয়নি।’
স্থানীয়দের ভাষ্য, কুকুরিয়া খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে কয়েকটি এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। পাশাপাশি এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার সুযোগ আরও সহজ হবে।
এ অবস্থায় জনদুর্ভোগ নিরসনে কুকুরিয়া খালের ওপর দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর দাবি, আর আশ্বাস নয়, তাঁরা চান বাস্তবায়ন। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবে কুকুরিয়া খালের ওপর দ্রুত সেতু নির্মাণ করে নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।