
খ ম জায়েদ হোসেন,নাসিরনগর(ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) প্রতিনিধি
জীবনের সকল সময় রাষ্ট্রীয় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অন্যতম প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ছিলেন অলি আহাদ। অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জীবনে জেল খেটেছেন অন্তত ১৮বার। জীবনের মূল্যবান সময়ের দীর্ঘ ১৮ টি বছর কেটেছে জেলখানার চার দেয়ালের অভ্যন্তরে। তবু আপোষ করেননি। আপোষ বলে কোন শব্দ ছিল না তার জীবনে। রাজনৈতিক ইতিহাসের এক উজ্জল নক্ষত্রের নাম হচ্ছে ভাষা বীর, ভাষা সৈনিক প্রয়াত অলি আহাদ।
একজন চীর বিপ্লবী, চীর বিদ্রোহী রাজনীতিকের নাম। জীবনের ইতিহাসে আপোষ নাই বললেই চলে। সকল সামরিক শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আপোসহীন ভূমিকার কারণেও তিনি নিগৃহীত হয়েছেন বার বার। শাসকদের দুর্নীতি-দুবৃত্তায়ন, স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে তার কন্ঠ ছিল সকল সময়ই সোচ্চার। এখানে তিনি কোন আপোষ করেন নাই। বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে পরিচালিত সকল সংগ্রামে অকুতোভয় এই লড়াকু জননায়ক আজীবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বর্ণ অক্ষরে লেখা একটি নাম অলি আহাদ- যে রাজনীতিবিদের নামের আগে কোন বিশেষণ বা পরিচয়ের প্রয়োজন হয় না- যার নামই একটি রাজনৈতিক ইতিহাস। তারই সুযোগ্য কন্যা রুমিন ফারহানা একাই সংসদের- বিশেষ কোটায় মহিলা সদস্য ও টেকনোক্রেট মন্ত্রিসহ ৩৫৩ জন কে ধরাশায়ী করে ফেলছেন বাবার সুযোগ্য
উত্তরাধিকারী হিসেবে নিজ যোগ্যতায়। তিনি যখন জ্বালাময়ী বক্তৃতা দেওয়া শুরু করেন তখন সরকারি দল- বিরোধীদল উভয়ই পক্ষই তাকে নিভৃত ও ডিস্টার্ব করার জন্য চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকেন- এমনকি স্পিকারও তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন! শুধু তাই নয় তিনি আওয়ামী লীগের আমলেও বিএনপির সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদকে মাতিয়ে রেখেছেন নিজ যোগ্যতায়- যে সংসদে তোফায়েল আহমেদ এর মত বর্ষিয়ান পার্লামেন্টারিয়ান তাকে নিভৃত করার জন্য পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিতে হয়েছে।
মেধাবী সুশিক্ষায় শিক্ষিত চিরকুমারী যোগ্য বাবার যোগ্য সন্তান- যার সমস্ত শরীরের পা থেকে মাথা পর্যন্ত একটি কলিজা বলে মনে হয়- জাতীয় সংসদের একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার যোগ্য বাবার যোগ্য উত্তরসূরী। আগামী দিনগুলোর জন্য শুভকামনা নিরন্তর।