1. thedailydrishyapat@gmail.com : TheDaily Drishyapat : TheDaily Drishyapat
  2. info@pratidinerdrishyapat.com : Pratidiner Drishyapat : Pratidiner Drishyapat
  3. admin@thedailydrishyapat.com : admin :
রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
মান্দায় এডিপির ৫ লাখ টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ পার্বতীপুরে প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ ও অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ ও গণমিছিল দামুড়হুদায় ছিনতাই হওয়া কোটি টাকা মূল্যের চুল ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করলো পুলিশ ইয়াবা সেবনে বাঁধা দেওয়ায় রংপুরে শিক্ষকসহ ৪ জনকে হত্যা আটক ২ দৈনিক ভোরের চেতনা সম্পাদক মহোদয়ের চুয়াডাঙ্গায় আগমনের ফুলের শুভেচ্ছা নাসিরনগরে পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে  বিপর্যস্ত জনজীবন ভূরুঙ্গামারীতে সার সংকটে ক্ষুব্ধ কৃষক, ডিলারের গুদাম ভেঙে নিলেন ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার তাড়াশে এক রাতে দুই কৃষকের গোয়ালঘর থেকে ৫ গরু চুরি পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় কৃষক খুন: দায়ে ৬ জনের যাবজ্জীবন রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব পদে ঠাকুরগাঁওয়ের আউয়াল আহমেদ

ইয়াবা সেবনে বাঁধা দেওয়ায় রংপুরে শিক্ষকসহ ৪ জনকে হত্যা আটক ২

সংবাদ প্রকাশক:
  • Update Time : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪ Time View

 

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর

 

বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাঁধা দেওয়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষকসহ ৪ জনকে হত্যা করে একই এলাকার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই যুবক। হত্যার পর খুনিরা গোসল করে এবং শরীরের উত্তেজনা কমাতে শষা ও খেজুর খায়। এরপর তাদের কাছে থাকা একটি ইয়াবা তারা সেখানেই সেবন করে।

 

গতকাল রোববার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। এর আগে রোববার ভোরের দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বাড়ি মাছুয়াপাড়ায়। তারা দুজনে সম্পর্কে মামাতো ও খালাতো ভাই। সিদ্ধার্থ স্বর্ণের দোকানে কাজ করতেন এবং মুগ্ধ মাছের দোকানে কাজ করতেন তারা।

 

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধার্ত ও মুগ্ধ রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তির বাড়ির ছাদে বসে ইয়াবা সেবন করছিলো। ইয়াবা সেবন দেখে ফেলেন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তি। সমাজে ইয়াবা সেবনের কথা প্রকাশের ভয়ে তারা গণপতি চক্রবর্তিকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। পরে গামছা পেছিয়ে তাকে হত্যা করা হয। হত্যার সময় গোঙানির শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তির স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদের উপর উঠার চেষ্টা করে। এমন সময় তারা সিড়িতেই প্রীতিলতা চক্রবর্তীকেও গলায় রশি পেচিয়ে হত্যা করে। মা কে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী। তারা তাকেও রশি পেছিয়ে হত্যা করেন। খুনি দুজনেই একই এলাকার হওয়ায় ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম তাদেরকে আগে থেকেই চেনেন এবং জানেন। খুনের বিষয় যাতে কেউ টের না পান এজন্য ১২ বছরের আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মকে প্রথমে রশি পেচিয়ে এবং পরে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন। একে একে চারজনকে হত্যার পর তারা দুইজনেই শরীরের উত্তেজনা কমাতে গোসল করেন। পরে তারা দুজনে ডাইনিং টেবিলে বসে শশা, খেজুর ও ইয়াবা সেবন করেন। হত্যার ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষে তারা বাড়ির আসবাবপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলেন এবং স্বর্ণের চুরি আগুন দিয়ে পরিক্ষা করেন, সেটি আসল না নকল। পরে বাকী রাতটুকু চেয়ারে বসে বিশ্রাম নেন তারা। বাড়িতে থেকে বের হওয়ার সময় যাতে কেউ দেখে না ফেলে এজন্য তারা অপেক্ষা করতে থাকেন। এরই মধ্যে ওই বাড়িতে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট পাউডারের পানিতে ভিজিয়ে রাখেন, যাতে মোবাইলে কোন আঙুৃলের ছাপ না থাকে। শুক্রবার জুমার নামাজ শুরু হওয়ায় রাস্তা ফাঁকা দেখে তারা ওই বাড়ি থেকে সটকে পরে।

 

এ ঘটনার পরপর পুলিশ তালাবদ্ধ ওই বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের লাশ উদ্ধার করে। পরে রাতেই ইয়াবা সেবনের আলামত ও পারিপাশ্বিক বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে এলাকায় অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেফতার করা হয়। তারা দ্জুনেই একই এলাকার বাসিন্দা।

 

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হযেছে। গ্রেফতারকৃতরা হত্যার কথা শিকার করেছেন।

 

উল্লেখ্য,শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত তিনদিন ধরে বাড়িতে তালাবদ্ধ দেখতে পান এলাকাবাসী। এদিকে কয়েকদিন ধরে কোন রকম যোগাযোগ করতে না পেরে ওই শিক্ষকের আত্মীয় স্বজন এলাকায় এসে বাড়িতে তালাবদ্ধ দেখে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে। এসময় বাড়ির ছাদে গণপতি চক্রবর্তী, সিঁড়ির কাছে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তি ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর লাশ পাওয়া যায় এবং একটি কক্ষের ভেতরে খাটের নিচ থেকে তাদের ছোট ছেলে আয়ুস চক্রবর্তীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্ন এবং বাড়ির জিনিস পত্র তছনছ ও ছড়ানো ছিটানো ছিলো।

 

জানা যায়, রংপুর জিলা স্কুল থেকে শিক্ষকতা পেশা থেকে চলতি বছরের ২ জানুয়ারী অবসরে যান গণপতি চক্রবর্তী। তিনি নগরীর সমবায় মার্কেটে একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিতেন। হত্যার শিকার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে মাস্টার্স পাশ করেছেন এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
প্রতিদিনের দৃশ্যপট ২০২৪
Theme Customized BY Kh Raad (FriliX Group)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com