
মোঃ আব্দুর রহীম মিঞা,টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
আমরা গেলে ওষুধ নাই, ওষুধ কেন যমুনায়?”—ঘাটাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ঔষধ কেলেঙ্কারির ঘটনায় এমন প্রতিবাদী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা সদর। সরকারি ওষুধ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। সকাল থেকে থানা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘেরাও এবং টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ না দিলেও সরকারি ওষুধ মেয়াদ উত্তীর্ণ করে কোটি টাকার ঔষধ নদীতে বা পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রকৃত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। “আমরা গেলে ওষুধ নাই, ওষুধ কেন যমুনায়?”, “দুর্নীতিবাজদের বিচার চাই”, “সরকারি সম্পদ লুটেরাদের গ্রেপ্তার কর”—দোষীরা কেনো রেহাই পাবে নিরীহ ড্রাইভার কেনো সাজা পাবে এমন স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
পরে বিক্ষোভকারীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঘাটাইল থানা ঘেরাও করে এবং টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয়।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিকআপ বোঝাই সরকারি ওষুধ ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী এলাকায় এসে জনতার হাতে আটক হলে দোষীদের আড়াল করে গাড়ির চালককে জড়িত করে ঘাটাইল থানায় মামলা দেয়। এ ঘটনায় ঘাটাইল বাসী ঔষধ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে থানা ও হাসপাতাল ঘেরাও এবং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি ওষুধ কেলেঙ্কারির মূল হোতাদের আড়াল করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরপরাধ পিকআপ চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার পরিবর্তে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও তারা দাবি করেন।
এলকাবাসীর অভিযোগ মূল অপরাধীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখে নিরপরাধ পিক-আপ চালকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অবিলম্বে আটক চালকের মুক্তি, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভকারীরা।