
ক্রীড়া প্রতিবেদক
রক্ষণ ও মাঝমাঠের সমন্বয়ে আক্রমণে উঠলেও প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের বড় সমস্যা। গোলমুখে এই অনিশ্চয়তা কাটাতে প্রয়োজন একজন নির্ভরযোগ্য নাম্বার নাইন। সেই ভরসার জায়গায় থমাস ডুলি এবার হয়তো বড় ঝুঁকিই নিচ্ছেন- আক্রমণভাগের গুরুদায়িত্ব তুলে দিচ্ছেন ১৮ বছর বয়সী মাহি খানের কাঁধে।
ইউনাইটেড কাউন্টি লিগের ক্লাব মোল্টন এফসির এই তরুণ ফরোয়ার্ড অবশ্য দায়িত্বের সামনে পিছিয়ে যাওয়ার মানুষ নন; বরং মুখিয়ে আছেন সেটি নিতে। সাফের প্রস্তুতি শুরুর দিনে মাহি জানিয়ে দিলেন, গোল করার ব্যাপারে আমি পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী, ‘ক্যাম্পে আসার আগেও ব্যক্তিগতভাবে কঠোর পরিশ্রম করেছি। তাই ইনশাআল্লাহ আমি গোল করতে পারব।’ কোচের প্রত্যাশা নিয়েও তার মনে কোনো ধোঁয়াশা নেই, ‘কোচ আমার কাছে কী প্রত্যাশা করছেন- তা আমি স্পষ্ট জানি। মাঠে কোচের পরিকল্পনা শতভাগ বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব এবং আশা করি গোল পাব।’
এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে আছে প্রস্তুতির পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতার নিশ্চয়তাও। হাতের চোট নিয়ে যে প্রশ্ন ছিল, সেটা এখন নেই। লক্ষ্যটাও লুকালেন না, অনুশীলনে নিজের সেরাটা দিতে পারলে একাদশের মূল স্ট্রাইকার পজিশনটি পেয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ছিল তার কণ্ঠে।
নাম্বার নাইনের জার্সি যে চাপও বয়ে আনে, সেটি অস্বীকার করছেন না মাহি। সেই চাপকে তিনি ভয় নয়, চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন, ‘কিছুটা চাপ তো থাকবেই। আমার একমাত্র লক্ষ্য মাঠে নেমে নিজের সেরাটা দেওয়া। নিজের ওপর এবং নিজের সামর্থ্যের ওপর আমার পুরো আস্থা আছে, তাই নার্ভাস নই। একাদশে সুযোগ পেলে সেরাটা উপহার দিতে চাই।’
মাত্র ১৮ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো জাতীয় সিনিয়র দলের ক্যাম্পে ডাক পাওয়াটা মাহির কাছে স্বপ্নপূরণের মতো, ‘আমি অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। এতে আমি নিজে যেমন গর্ববোধ করছি, তেমনি আমার পরিবারের সবাইও ভীষণ খুশি।’
ড্রেসিংরুমে হামজা চৌধুরীর সান্নিধ্য মাহির কাছে বিশেষ কিছু। মাহির ছোটবেলা কেটেছে লেস্টার সিটির খেলা দেখে, কারণ ক্লাবটি তাদের বাসার কাছেই। সেই মাঠে যাকে খেলতে দেখে বড় হয়েছেন, এবার তার সঙ্গেই একই দলের জার্সি গায়ে জড়াবেন। এই সংক্রান্ত উত্তেজনা চেপে রাখেননি তরুণ ফরোয়ার্ড, ‘আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত। সেই ছোটবেলা থেকে যাকে দেখে বড় হয়েছি, এখন তার সঙ্গে একই দলে খেলার সুযোগ এসেছে- এটি আমার জন্য বিশাল এক সম্মানের ব্যাপার।’ যোগ করেন, ‘হামজা শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে খেলেছেন এবং প্রচুর অভিজ্ঞতাও রয়েছে। তার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাব, তাই আমি দারুণ রোমাঞ্চিত।’
ফুটবল শেষ পর্যন্ত কথায় নয়, মাঠের ফল দিয়েই বিচার হয়। ডুলির বাজি সফল হবে কি না, তার উত্তর মিলবে সাফের ম্যাচগুলোতেই। মোল্টনের এই কিশোর যদি গোলমুখে ঠান্ডা মাথায় জাল খুঁজে নিতে পারেন, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সেই শূন্যতা হয়তো ভরাট হতে শুরু করবে। আর না পারলেও, একটি স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামার এই সাহসটুকুই হয়তো আগামী দিনের ফুটবলের বড় পুঁজি!