
ভূল্লী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ভাতগাঁওয়ে শ্রী শ্রী রসিক রায় জিউ মন্দিরে দুর্গা প্রতিমা প্রবেশ করানোকে কেন্দ্র করে ইসকন ও স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে প্রতিমা মন্দিরে প্রবেশ করানোর সময় দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। এতে মন্দির ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মন্দিরের জমির মালিকানা ও পূজা আয়োজনকে কেন্দ্র করে ইসকন ও স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। স্থানীয় সনাতনী পক্ষের দাবি, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টের রায় তাদের পক্ষে রয়েছে। তবে ওই রায় থাকার পরও ইসকনপন্থীরা মন্দির এলাকায় অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় সনাতনী পক্ষের অভিযোগ, দুর্গা প্রতিমা মন্দিরে প্রবেশ করানোর সময় ইসকনপন্থীরা বাধা দিলে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হলে লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে তারা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসকন পক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মন্দিরের সেবায়েত অপু শর্মা বলেন, মন্দিরের জমি ও পূজা আয়োজনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের পক্ষে হাইকোর্টের রায় রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, দুর্গা প্রতিমা মন্দিরে প্রবেশ করানোর সময় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তাদের পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন বলেন, মন্দিরের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মন্দির এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে সংঘর্ষে রূপ নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। মন্দির এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।