
মো.আমিনুর ইসলাম,ভুরুঙ্গামারী(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় সার সংকটের জেরে কৃষকদের সড়ক অবরোধ ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় মামলা করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা উল্লেখ থাকায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রেপ্তার ও হয়রানির আশঙ্কায় রয়েছেন অনেক কৃষক। তাঁদের দাবি, তাঁরা সারের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করেছেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্যে নয়।
কৃষকদের ভাষ্য, ‘সার চাওয়া কি আমাদের অপরাধ? আমরা কৃষকের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য গিয়েছিলাম। সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর উদ্দেশ্য ছিল না।’
এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর সোমবার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের গনাইয়েরকুটি মৌজায় বিএডিসির সার ডিলার মেসার্স আফি সার ঘরের গুদাম থেকে সার বিতরণের সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে স্থানীয় কৃষকেরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও তাঁর সহকর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একই সঙ্গে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন তাঁরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে মুঠোফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভুরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) খবর দেওয়া হয়। পরে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এ ঘটনায় ভুরুঙ্গামারী থানায় মামলা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় তাঁকে ও তাঁর সহকর্মীদের কিল-ঘুষি মারা এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা সহকারীরা তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নেন। তবে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে রাখেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে মামলার পর গ্রেপ্তার ও হয়রানির আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় অনেক কৃষক। তাঁদের অভিযোগ, নিরীহ কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভুরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দীন বলেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রকৃত দোষীদের ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। নিরপরাধ কৃষকদের ভয় বা হয়রানির কোনো সুযোগ নেই।’