1. thedailydrishyapat@gmail.com : TheDaily Drishyapat : TheDaily Drishyapat
  2. info@pratidinerdrishyapat.com : Pratidiner Drishyapat : Pratidiner Drishyapat
  3. admin@thedailydrishyapat.com : admin :
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
আমতলীতে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন মান্দায় জবই বিল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় সভা নওগাঁর সাপাহারে ‘অফ সিজনেও’ কাটিমনে করছে মন জয়  শেখ হাসিনা বিশ্বসেরা অভিনেত্রী: হাফিজ উদ্দিন আহমেদ মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, বিয়ের দাবিতে অনশন ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ; প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার সার সংকট নিয়ে অবরোধের ঘটনায় কৃষি কর্মকর্তার মামলা, আতঙ্কে কৃষকরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাসিকের ৩ মাসব্যাপী কর্মসূচি: ফগার স্প্রে ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন নেত্রকোনায় দের যুগ ধরে বন্ধ শিল্পকলা একাডেমী

নওগাঁর সাপাহারে ‘অফ সিজনেও’ কাটিমনে করছে মন জয় 

সংবাদ প্রকাশক:
  • Update Time : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ Time View

ন্যাশনাল ডেস্ক।

 

আম উৎপাদনে অন্যতম জেলা নওগাঁয় আম্রপালি, নাক ফজলি, গোপালভোগ, হিমসাগরসহ বিভিন্ন পরিচিত জাতের সিজনাল আম অনেক আগেই বেচাকেনা শেষ হয়েছে। ভোক্তারা চাইলেও এ বছর আর খেতে পারবে না ওইসব আম। তারপরও নওগাঁর বাজার ধরে রেখেছে ‘কাটিমন’ জাতের আম। বর্তমানে জেলার সাপাহারে এই আমের বাজার পথচারীদের নজর কাড়ছে, চাহিদা মেটাচ্ছে ভোক্তাদের।

 

 

এখন আর মাস ভেদে নিয়ম করে আম পাকে না। পাঁচ বছর ধরে প্রায় প্রতি মাসেই আম পাওয়া যাচ্ছে। হাঁড়িভাঙা, আম্রপালিসহ বিভিন্ন জাতের আমের বাজার শেষ হলেও এখন বাজারে রাজত্ব করছে বারোমাসি কাটিমন জাতের আম। দেখতে ভালো হওয়ায় খুব সহজেই নজর কাড়ছে পথচারীদের। বৈশাখ পেরিয়ে ভাদ্র মাসও শেষের দিকে, আশ্বিন শেষ হয়ে অগ্রহায়ণেও হয়তোবা থাকবে নওগাঁর বাজারে এই আমের সরবরাহ ও রাজত্ব। আমের দুটো সিজন থাকে, ‘অন সিজন’ ও ‘অফ সিজন’। বছরের শুরুতে শীর্ষে থাকে আম্রপালি। পর্যায়ক্রমে নাক ফজলি, হিমসাগর, হাঁড়িভাঙা, গোবিন্দভোগ, ল্যাংড়া, গোপালভোগসহ অন্যান্য জাতের আম পাওয়া যায় অন সিজনে। এরপর আর ভোক্তাদের ভাগ্যে জোটে না আম। তবে ২০২১ সাল থেকে অফ সিজনের কাটিমন জাতের আমের উৎপাদন ও ফলন বাড়তে থাকে। নজরে আসে ক্রেতাদের, চাহিদা বাড়তে থাকে ভোক্তাদের।

 

 

মূলত সারা বছর চাষ করা যায় বলে এটি বারোমাসি আম নামেই পরিচিত। আমটি দেখতে যেমন ভালো, খেতেও ভালো। আর এই কারণে অফ সিজনেও নওগাঁসহ দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত ভোক্তাদের চাহিদা মেটাচ্ছে আলাদা স্বাদের কাটিমন জাতের এই আম। এই আম সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে জেলার সাপাহার উপজেলায়। সেজন্য দেশ-বিদেশে সুখ্যাতি আছে সাপাহারের আম ও আমের বাজারের।

 

 

জেলার পোরশা, নিয়ামতপুর, পত্নীতলা উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে কাটিমন জাতের আম চাষ হচ্ছে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা। আড্ডা, পোরশার সারাইগাছি, ধামইরহাট, পত্নীতলা উপজেলা থেকে আম বিক্রি করতে সাপাহারে আসেন কৃষকরা।

 

 

গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে নওগাঁর সবচেয়ে বড় আমের বাজার সাপাহারে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা তাদের আম ভ্যানে করে নিয়ে এসেছেন। সারি সারি করে দাঁড়িয়ে আছেন বিক্রির জন্য। অফ সিজনে আমের এই বাজার দেখে আনন্দিত উপজেলাবাসী। কারণ তারা গত বছরও এই সময়ে এই রকম আমের বাজার দেখেনি। তাদের দাবি, আমের এই বাজার দেখে যে কেউ ভাববে পুরো আমের সিজন চলছে।

 

 

বিক্রির জন্য সাপাহার বাজারে আম নিয়ে এসেছেন উপজেলার হরিপুরের আমচাষি মনসুর আলী। তিনি কালবেলাকে বলেন, আমি পাঁচ বিঘা জমিতে কাটিমন আম চাষ করেছি, ফলন অনেক ভালো হয়েছে। দাম চেয়েছি ৮ হাজার টাকা মণ, আর ব্যাপারি সাড়ে ৬ হাজার বলেছে। তবে ৭ হাজার টাকা হলে বিক্রি করব। এ ছাড়া আমের প্রকারভেদে দাম কম বা আরও বেশি হতে পারে।

 

 

তার মতো উপজেলার বালুকাডাঙ্গার আমচাষি রেজাউল ও সিদ্দিকুর রহমান জানান, এ সময় অন্যান্য আম না থাকায় কাটিমন আমের ব্যাপক চাহিদা। এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। আগামীতে এর তিনগুণ আম চাষ হবে বলে আশা তাদের।

 

 

উপজেলার গোয়ালা ইউনিয়নের সারোগডাঙ্গা এলাকার আমচাষি হাফিজুর রহমান কালবেলাকে বলেন, এখনো মুকুল আছে, এই আম কমপক্ষে নভেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। মোটকথা সারা বছর এই আম পাওয়া যাবে।

 

 

তিনি আরও বলেন, আমি ২০১৯ সালে কাটিমন জাতের এই আম চাষে উদ্যোগ নিই। ২০২১ সাল থেকে আম ধরা শুরু করে। এ ছাড়া বারোমাসি এই আম চাষের ফলে আমার বাগানে অন্তত ১০-১২ জন কর্ম করতে পারে। অন্যান্য আম খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়, ফলে তাদের কাজ আর থাকে না। তাই আমার এখানে সারা বছর তারা কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে, এটা আমার খুব ভালো লাগে।

 

 

একইভাবে ২০১৯ সালে কাটিমন জাতের গাছের চারা লাগিয়েছিলেন বলে জানান একই ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর এলাকার আমচাষি নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, আমি ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হই। এরপর সফলতা আসে ২০২১ সালে। এটা মোটামুটি লাভজনক। তবে খুব পরিশ্রম আছে, আবার উৎপাদন খরচও আছে।

 

 

সাপাহার উপজেলার টেংরা কুড়ি গ্রামের কৃষক জামাল উদ্দিন ৬০ বিঘা জমিতে কাটিমন আমের বাগান করেছেন। তিনি বলেন, প্রতি বিঘাতে ২০ থেকে ২৫ মণ আবার কখনো ৩০ থেকে ৩৫ মণ আমের ফলন হয়। এ সময় বাজারে অন্য আম না থাকায় কাটিমন আমিরের রাজত্ব চলছে। মণপ্রতি ৪ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বাজার চলছে। এবার বাগান থেকে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার আম বিক্রি হবে বলে আশা করছি।

 

 

সাপাহার বাজার থেকে বাড়ির জন্য কাটিমন আম কেনেন উপজেলার বাসিন্দা প্রদীপ। তিনি বলেন, আগে কখনো এই আমের এত বড় বাজার দেখিনি। এখন তো আমের সিজন নেই, চোখের সামনে এত সুন্দর আম দেখে এমনিতেই কিনতে ইচ্ছে করে। তাই মাঝেমধ্যে কিনে বাড়ি নিয়ে যাই।

 

 

স্থানীয় ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর ও সমর সাহা বলেন, এর আগে কাটিমন আমের এমন জাঁকজমক বেচাকেনা দেখা যায়নি। এবার ব্যাপক আম হয়েছে। অনেক কৃষক বলছেন, আগামীতে তারা আরও এই আম চাষ করবেন। এই আম শুরুতেই অনেক দাম পাওয়া যায়। কারণ বাজারে অন্যান্য আম নেই এবং হয়রানি ও ঝামেলা কম হয়।

 

 

সাপাহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাপলা খাতুন বলেন, এই উপজেলায় কাটিমন আম বর্তমানে ১৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে। যা আগে ছিল ৯৭ হেক্টর। চাষিরা ভালো দাম পাওয়ায় দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে এই জাতের আম চাষে। এ ছাড়া এই আম সারা বছর পাওয়া যায়, এ জন্য ইচ্ছে করলেই সহজে খেতে পারেন ভোক্তারা। তাই আমচাষিদের কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

 

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অদিপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) রেজাউল করিম বলেন, কাটিমন জাতের আম সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে সাপাহার উপজেলায়। এ ছাড়া জেলার পোরশা, নিয়ামতপুর, পত্নীতলা, রানীনগরসহ অন্যান্য উপজেলা মিলে জেলায় এ বছর ২৫৫ হেক্টর জমিতে কাটিমন আম চাষ হচ্ছে, যা গত বছর ছিল ১৯০ হেক্টর।

 

 

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য জাতের আম একটা নির্দিষ্ট সিজনে হারভেস্ট করা যায় অর্থাৎ, পরিপক্ব হয়। কিন্তু কাটিমন জাতের এই আমের বিশেষত্ব হলো কৃষক তার ইচ্ছে অনুযায়ী বছরে দুই থেকে তিনবার যেকোনো সময়ে হারভেস্ট করতে বা পাকাতে পারে। আর এই কারণেই এই আমের গুরুত্ব আছে। তবে অন্যান্য আমের স্বাদ থেকে এই আমের স্বাদ একটু আলাদা। আর এই আম নওগাঁ থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গাসহ বিদেশেও যাচ্ছে।

 

 

অতিরিক্ত উপপরিচালক রেজাউল করিম বলেন, এই মৌসুমে কাটিমন আমের ফলন হেক্টরপ্রতি ১২ থেকে ১৫ টন। তাতে ২৫৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ৩ হাজার ৬০ থেকে ৩ হাজার ৮২৫ টন আম পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কেজি আমের সর্বনিম্ন মূল্য ১৫০ টাকা, গড় মূল্য ১৮০ এবং সর্বোচ্চ মূল্য ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে দাম মোট ৫৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

 

 

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, চাষিদের সকল বিষয়ে সহযোগিতাসহ পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখা হয়েছে কৃষি বিভাগ থেকে। গতবারের চেয়ে এবার বেশি কাটিমন জাতের আম চাষ হয়েছে। কাটিমন ছাড়াও এই জেলায় মোট আমের বাগান আছে ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
প্রতিদিনের দৃশ্যপট ২০২৪
Theme Customized BY Kh Raad (FriliX Group)
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com