
মোঃ আমিনুর রহমান, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একসঙ্গে তিন পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন কল্পনা বেগম। সন্তানদের জন্মে পরিবারে আনন্দের পাশাপাশি নেমে এসেছে চরম আর্থিক সংকট। অসুস্থ মা ও তিন নবজাতকের চিকিৎসা, ওষুধ ও খাবারের খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে দরিদ্র পরিবারটি।
গত ২৩ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিন পুত্রসন্তানের জন্ম দেন কল্পনা বেগম। নবজাতকদের নাম রাখা হয়েছে হাসান, হোসাইন ও বেল্লাল। জন্মের পর হাসানের ওজন ছিল ২ কেজি এবং হোসাইন ও বেল্লালের ওজন ছিল ১ কেজি ৯০০ গ্রাম করে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বর্তমানে কল্পনার চিকিৎসায় প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকার ওষুধ প্রয়োজন হচ্ছে। পাশাপাশি তিন নবজাতকের জন্য প্রতিদিন দুই প্যাকেট ফর্মুলা দুধ কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এর মধ্যে অস্ত্রোপচারের কাটা স্থানে ইনফেকশন দেখা দেওয়ায় মায়ের চিকিৎসা ব্যয় আরও বেড়েছে।
তিন সন্তানের জন্মে কল্পনা বেগম আনন্দিত হলেও নিজের অসুস্থতা ও পরিবারের আর্থিক অনটন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাঁর স্বামী জায়দুল বাকপ্রতিবন্ধী। তিনি আন্ধারিঝাড় বাজারের একটি হোটেলে কাজ করে যা আয় করেন, তা দিয়ে সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোই কঠিন। ফলে বর্তমানে কল্পনা তাঁর মা-বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
কল্পনা বেগম বলেন, “একসঙ্গে তিন সন্তান হওয়ায় আমি অনেক খুশি। কিন্তু তাদের চিকিৎসা ও খাবারের খরচ চালাতে গিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে। আমার স্বামীও প্রতিবন্ধী এবং হোটেলে কাজ করেন। প্রতিদিন মানুষের সহযোগিতায় কোনোভাবে চিকিৎসা ও দুধের ব্যবস্থা করছি। প্রতিদিন তো একজন মানুষ সহযোগিতা করবে না। সরকারি বা অন্য কোনো সহযোগিতা পেলে সন্তানদের নিয়ে একটু নিশ্চিন্ত হতে পারতাম।”
কল্পনার মা-বাবা জানান, তাঁরা নিজেরাও দরিদ্র ও অসহায়। মেয়ের অসুস্থতা এবং একসঙ্গে তিন নবজাতকের দায়িত্ব নেওয়ায় পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তাই অসহায় মা ও তিন শিশুর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থা করতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁরা।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সহায়তার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অমৃত দেবনাথের কাছে আবেদন করা হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ৩ হাজার টাকা সহায়তা করেছেন। তবে পরিবারটি জানায়, চিকিৎসা ও নবজাতকদের খাবারের নিয়মিত ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
পরিবারটি সরকারি সহায়তার আওতায় আরও কী ধরনের সহযোগিতা পেতে পারে, সে বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেবনাথের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ অবস্থায় অসুস্থ কল্পনা বেগম ও তাঁর তিন নবজাতকের পাশে দাঁড়াতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে পরিবারটি।
সহায়তার জন্য যোগাযোগ:
কল্পনার মা: ০১৭৩০৫১৭৬৫৩
কল্পনার বাবা আবুল কালাম: ০১৭৯৫৪৯৭৫৯৮