
শিমুল রেজা ,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই ) বিকাল ৬ চুয়াডাঙ্গা শহীদ হাসান চত্বর চৌরাস্তার মোড়, বড়বাজার প্রাঙ্গণে এ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপি’র আহ্বায়ক খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লবের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মূখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মাহমুদা আলম মিতু, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসুম,কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ,যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্যসচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক আহসান। চুয়াডাঙ্গা জেলা সদস্যসচিব আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহেল পারভেজ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম সারোয়ার ছোটন, মো. আলী রুশদী মজনু, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গার সাবেক আহ্বায়ক আসলাম অর্ক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গার মুখ্য সংগঠক মোস্তাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আখতার হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে জীবন দেওয়া মানুষগুলোর খুনিদের টাকার বিনিময়ে ছাড়িয়ে নিচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। খুনিদের রক্ষার জন্য তারা ট্রাইব্যুনালে নিজেদের পছন্দের লোক বসিয়েছে। ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমনকি মসজিদ কমিটিও তারা দখলে নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার এক গভীর কূটকৌশলের অংশ হিসেবে সেখানে দলীয় ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে অভিযোগ করে, ‘আমরা একটা নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা করেছিলাম। যে বাংলাদেশে সরকারি চাকরি হবে দলমতের বাইরে গিয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে। এমন একটা বাংলাদেশ, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণমুক্ত করা হবে। এমন একটা বাংলাদেশ, যেই বাংলাদেশে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ দেওয়ার সময় সরকারি দল, বিরোধী দল, সকলের অংশগ্রহণ থাকবে। একটা নিরপেক্ষ বডির মধ্য দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আর ও বলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। কিন্তু তারেক রহমানের সরকার জনগণের সেই স্বপ্ন আজ ধ্বংস করে দিচ্ছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এই সরকার রাষ্ট্রের সব দপ্তরে নিজেদের দলীয় পদধারী লোকজন নিয়োগ দিচ্ছে। আখতার হোসেন আরও বলেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে পাঁচজনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সীমান্ত নিরাপত্তায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি আমরা সাধারণ জনগন ঐক্যবদ্ধ অবস্থান, সীমান্ত রক্ষা কেবল বিজিবির একার দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য। এছাড়াও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে এদেশে তাদের রাজনীতি করতে দেয়া হবে না বলে উল্লেখ করেন।
পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, দেশের মানুষ তারেক রহমানকে দেখে ভোট দেয়নি। তারা ভোট দিয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে দেখে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখে। বিএনপি নির্বাচনের আগে বলছে- সবার আগে বাংলাদেশ, এখন দেখছি- সবার আগে ক্ষমতা, সবার আগে বিএনপি। নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিল বিএনপি। কিন্তু তারা নির্বাচিত হওয়ার পরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। এই হলো বিএনপির চরিত্র। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের মানুষ ভালোবাসে, সম্মান করে। কিন্তু তারেক রহমান মানুষের সেই ভালোবাসা ও আবেগের সঙ্গে বেইমানি করেছেন।’ এমন হলে দেশের জনগণ মানবে না। আমাদের জন্য ভারত নেই, ইংল্যান্ড নেই। আমাদের এত টাকা নেই যে, আমরা আমেরিকায় চলে যেতে পারব। আর ও বলেন আগামীর লড়াই কোনো দলীয় লড়াই নয়। এটি ভালো-মন্দের লড়াই, ন্যায়-অন্যায়ের লড়াই, জুলুম আর মজলুমের লড়াই। এ দুই পক্ষের মধ্যে একটি পক্ষ আপনাকে বেছে নিতে হবে। আমরা (এনসিপি) যদি ভালো কাজ করি, তাহলে আমাদের সমর্থন দেবেন। আর যদি ভালো কাজ না করি, তাহলে আমাদের সমর্থন করার প্রয়োজন নেই।