
মো. আমিনুর রহমান,ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আড়ালে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করে আসছিলেন জনৈক মো. আলাল হোসেন (পিতা: জহুর উদ্দিন), ঠিকানা: তিলাই ইউনিয়ন, ভূরুঙ্গামারী। অভিযুক্ত ব্যক্তি শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে একটি ছোট মোবাইল ব্যাংকিংয়ের দোকানের মাধ্যমে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা ও সীমান্তসংলগ্ন ভারতের কোচবিহার জেলার বিভিন্ন স্থানে অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইটে টাকা রিচার্জ করে আসছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই)বিকেল চারটায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিবিড় নজরদারির পর অভিযান চালিয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারে সংরক্ষিত জুয়া ও ক্যাসিনো-সংক্রান্ত তথ্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জনাব মুনতাসির মামুন মুন এবং ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মো. আজিম উদ্দিনের উপস্থিতিতে থানা পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে অনলাইন জুয়া পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত ৪টি স্মার্টফোন, বেশ কয়েকটি মোবাইল সিম এবং অনলাইন জুয়ার রিচার্জের কাজে ব্যবহৃত নগদ ১,৪০,০০০/- (এক লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকা জব্দ করা হয়। তার বিরুদ্ধে সদ্য প্রণীত “জুয়া আইন-২০২৬”-এর অনলাইন জুয়া-সংক্রান্ত ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জনাব মুনতাসির মামুন মুন জানান, ১৬৬ বছর পর ব্রিটিশ আমলে প্রণীত জুয়া আইন সংস্কার করে নতুন জুয়া আইন-২০২৬ জারি করা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, “আমরা ভূরুঙ্গামারী উপজেলাকে মাদক, চোরাকারবার ও জুয়ামুক্ত রাখতে বদ্ধপরিকর। মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আমাদের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মো. আজিম উদ্দিন জানান, “জুয়া ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান চলবে।