
ন্যাশনাল ডেস্ক
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে আবারও ফাইনালে উঠেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই নিয়ে সপ্তমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল আলবিসেলেস্তারা। লিওনেল মেসির জাদুকরী দুই অ্যাসিস্টে এনজো ফের্নান্দেস এবং লাউতারো মার্তিনেসের দেওয়া দুই গোলে ফাইনালের টিকিট কাটে স্কালোনির শিষ্যরা।
গণমাধ্যমকে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের পর জয়কে বিশেষ উল্লেখ করে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, এই দলকে ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। এ সময় দলের খেলোয়াড়দের প্রতি তিনি চিরকৃতজ্ঞ বলেও জানিয়েছেন স্কালোনি।
ম্যাচ শেষে আবেগ ধরে রাখতে না পেরে স্কালোনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনার মানুষের ফাইনালে ওঠার আনন্দ উদযাপন করা উচিত। এই খেলোয়াড়দের দলটিকে ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। তারা সত্যিই বিশেষ। আমি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছি। তারা সবকিছুর জন্য লড়াই করে।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনা কিছুটা চাপে ছিল বলেও স্বীকার করেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘আমরা কিছুটা চাপে ছিলাম, কিন্তু প্রতিপক্ষ নিজেদের নিয়ে সন্দেহে ভুগছিল। আমরা সুযোগ বুঝতে পেরেছিলাম এবং তা কাজে লাগাতে ঝাঁপিয়ে পড়ি। আমরা সবাই তা বুঝতে পারছিলাম।’
ইংল্যান্ডের গোলমুখে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘ইংল্যান্ডের গোলের সামনে যেন একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। বলটি দুবার পোস্টে লেগে শেষ পর্যন্ত জালে জড়ায়।’
ইংল্যান্ড গোল করার পর আর্জেন্টিনা নিজেদের ফুটবলের সামর্থ্য দেখিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন স্কালোনি। তার ভাষায়, ‘ইংল্যান্ড গোল করার পর আমরা আমাদের ফুটবল সম্পর্কে অনেক কিছু দেখিয়েছি। এটা শুধু কৌশল বা সুন্দর ফুটবল খেলার চেয়েও অনেক বেশি কিছু।’
ফাইনাল জয়ের লক্ষ্য জানিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা ফাইনাল জেতার চেষ্টা করব। কিন্তু এই দলকে আর কী করতে হবে? আসলে বলার মতো খুব বেশি কিছু নেই। এই খেলোয়াড়দের দলের প্রতি আমি চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব।’
বদলি খেলোয়াড়দের অবদানের কথাও আলাদাভাবে উল্লেখ করেন আর্জেন্টিনার কোচ। তিনি বলেন, ‘বদলি হিসেবে মাঠে নামা খেলোয়াড়রাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সবকিছু উজাড় করে দেওয়ার পর বাড়ি ফেরার অনুভূতিই আসলে ফুটবলের মূল সৌন্দর্য।’
ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের নিউজার্সিতে শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। দলের সাম্প্রতিক সাফল্যের পেছনে খেলোয়াড়দের লড়াইয়ের মানসিকতা এবং দলীয় ঐক্যকে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন স্কালোনি।