
ন্যাশনাল ডেস্ক রিপোর্ট
নওগাঁর মান্দা উপজেলার কুশম্বা ও ভারশোঁ ইউনিয়নের দুটি গুরুত্বপূর্ণ খালের পুনঃখনন কাজ শেষ হওয়ার পর আষাঢ়ের নতুন পানিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে এক সময়ের মরা খাল। খালগুলো এখন পানিতে টইটম্বুর। সেই পানি ব্যবহার করে কৃষকরা শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে সহজেই জমিতে সেচ দিচ্ছেন। ফলে মাঠজুড়ে শুরু হয়েছে আমন ধান রোপণের ধুম। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা দূর হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ফিরে এসেছে স্বস্তি।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ভরাট হয়ে পড়ে থাকা খাল দুটি পুনঃখননের ফলে বর্ষার পানি সহজেই সংরক্ষিত হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকেরা খাল থেকে সরাসরি পানি তুলে আমনের জমিতে সেচ দিচ্ছেন। এতে সেচ ব্যয় কমার পাশাপাশি কৃষিকাজও অনেক সহজ হয়েছে। খালের দুই পাড়ে সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি জাতীয় গাছ লাগানো হয়েছে। এসব গাছের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদকে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে খাল দুটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু প্রকল্প দুটির উদ্বোধন করেন।
প্রকল্পের আওতায় কুশম্বা ইউনিয়নের হাড়কিশোর মৌজার বিল উথরাইল ব্রিজ থেকে বাদলঘাটা ব্রিজ পর্যন্ত খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয় ৫৪ লাখ ১১ হাজার ৪৮০ টাকা। এছাড়া ভারশোঁ ইউনিয়নের বাঁকাপুর দফাদার মোড় থেকে বিল উথরাইল পর্যন্ত খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয় ৫৬ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৭ টাকা। মোট ১ কোটি ১০ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫৭ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক বিশু বলেন, খালে পানি আসায় এখন সহজেই জমিতে সেচ দিতে পারছি। আগে পানির জন্য দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। এখন অতিরিক্ত পানি খালে নেমে যাচ্ছে, আবার সেই পানি দিয়েই চাষাবাদ করছি। খালের পাড়ে লাগানো গাছ বড় হলে কৃষকেরা ছায়ায় বিশ্রাম নিতে পারবেন, ফলও খেতে পারবেন।
আরেক কৃষক আহসান হাবিব বলেন, আগে মাঠে পানি জমে থাকত। এখন জলাবদ্ধতা নেই। সময়মতো সব ফসল লাগানো যাচ্ছে। রাস্তাঘাটের অবস্থাও ভালো হয়েছে। ভবিষ্যতে খালে দেশি মাছও পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।
ভারশোঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন ও কুশম্বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওফেল বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে প্রায় ১০০ বিঘা জমির জলাবদ্ধতা দূর হয়েছে। এখন কৃষকেরা বছরে বোরো, আউশ ও সরিষাসহ তিনটি ফসল আবাদ করতে পারবেন। পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমেও খালের পানি ব্যবহার করে সহজেই সেচ দেওয়া সম্ভব হবে।
মান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, খাল দুটি পুনঃখননের ফলে দুই বিলের জলাবদ্ধতা দূর হয়েছে এবং কৃষকেরা সেচ সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া খালে পানি সংরক্ষিত থাকায় দেশি মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। খালের দুই পাড়ে ২ হাজার ৫০০টি ফলজ, বনজ ও ঔষধি জাতীয় গাছ রোপণ করা হয়েছে।
মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। আগে যেখানে বছরে একটি ফসল হতো, এখন সেখানে দুই থেকে তিনটি ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। শুষ্ক মৌসুমেও কৃষকেরা খালের পানি ব্যবহার করে সেচ দিতে পারবেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে বর্ষার পানি সংরক্ষণ, শুকনো মৌসুমে সেচ, মাছ চাষ এবং খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণের মতো বহুমুখী সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব। ইতোমধ্যে মান্দার বিভিন্ন এলাকায় খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দিনে সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা এসব প্রকল্পের পূর্ণ সুফল ভোগ করতে পারবেন।