
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
“উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরগুনার আমতলী উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।
সোমবার সকাল ১০টায় আমতলী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আমতলী প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম বাদল। শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও পবিত্র গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
স্বাগত বক্তব্য দেন বিআরডিবি কর্মকর্তা মো. ফিরোজ আলম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশরাফুল ইসলাম, আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সোহেল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল, বিআরডিবি চেয়ারম্যান মো. মঈনউদ্দীন মামুন এবং আমতলী উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক কবির ফকির।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আমতলী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন আমতলী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক আবু জিহাদ, আমতলী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান সালেহ, সাংবাদিক শাওন খান, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সমবায় সমিতির সদস্য, বিআরডিবির গ্রাহক ও সুবিধাভোগী, সুধীজন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে সুবিধাভোগীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্বে মোছা. ফাতেমা বেগম বলেন, “২০১১ সাল থেকে আমি বিআরডিবির সঙ্গে যুক্ত। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা সচেতন হচ্ছি। পরিবেশবান্ধব গ্রাম গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
অপর সুবিধাভোগী ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, “বিআরডিবি থেকে ঋণ নিয়ে আমি ছাগল, হাঁস ও মুরগি পালন শুরু করেছি। বর্তমানে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।”
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পল্লী এলাকার অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সমবায় কার্যক্রম জোরদার, নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে নির্বাচিত কয়েকজন সুবিধাভোগীর মাঝে নগদ অর্থের চেক বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন উপকারভোগীর হাতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।