
শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
ফুটবল বিশ্বকাপ বা বড় কোনো টুর্নামেন্ট এলেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের উন্মাদনা চোখে পড়ে। তবে আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে এবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আলমডাঙ্গা চটপটির ব্যবসায়ী দীপিল কুমার। নিজের পুরো চটপটির ঠেলাগাড়িতেই প্রিয় দল আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে। পেশায় তিনি একজন ভ্রাম্যমাণ চটপটি ও ঝালমুড়ি বিক্রেতা। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চটপটি বিক্রি করেন। তবে ব্যস্ততার এই জীবন তাকে কখনোই বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা থেকে দূরে রাখতে পারেনি। বরং প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসাকে তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন নিজের ছোট্ট ব্যবসার মধ্যেই।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা শহরের ক্যানাল পাড়ার বাসিন্দা, ৪৫ বছরের বেশি বয়সী দীপিল কুমার প্রায় ১৫ বছর ধরে চটপটি ও ঝালমুড়ির ব্যবসা করছেন। তিনি জানান, ১৯৯০ সাল থেকেই আর্জেন্টিনা ও কিংবদন্তি ফুটবলার ম্যারাডোনার ভক্ত। এরপর সময়ের সঙ্গে সেই ভালোবাসা আরও গভীর হয়েছে লিওনেল মেসিকে ঘিরে।
এবারের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো নিজের ভ্রাম্যমাণ চটপটির দোকানটি আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে সাজিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, দোকানে স্পিকারে সারাক্ষণ বাজে আর্জেন্টিনা ও মেসিকে নিয়ে বিভিন্ন গান। ফলে চটপটির ঠেলাগাড়িটিই যেন হয়ে উঠেছে এক টুকরো ফুটবল উন্মাদনার প্রতীক।
দীপিল কুমার বলেন, `আমার এই পোশাক আর ভ্রাম্যমাণ চটপটির দোকানের সাজসজ্জা নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন। কেউ কেউ পাগলও বলেন। কিন্তু তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমার পছন্দের দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের ধরন আমার নিজের। আমি যেভাবে ভালোবাসি, সেভাবেই প্রকাশ করি। এভাবেই আমার ভালো লাগে।‘
তিনি জানান, সমালোচনার পাশাপাশি অনেকেই তার এই উদ্যোগের প্রশংসাও করেন। বিশেষ করে যারা মেসি ও আর্জেন্টিনাকে ভালোবাসেন, তারা তাকে উৎসাহ দেন এবং পাশে থাকেন।
তার ভাষায়, `কে কী বলল, এতে কিছু যায় আসে না। আমি যেমন নিজের দেশকে ভালোবাসি, তেমনি বিশ্বকাপের উন্মাদনায় আর্জেন্টিনা দলকেও ভালোবাসি। যে যাই বলুক, আমি যেমন আছি, তেমনই থাকব।‘
দীপিল কুমারের স্বপ্নও অন্যরকম। চটপটি বিক্রি করে টাকা জমিয়ে একদিন গ্যালারিতে বসে নিজের প্রিয় দল আর্জেন্টিনার খেলা দেখবেন। সেই স্বপ্নই তাকে প্রতিদিন নতুন করে অনুপ্রাণিত করে।
জীবনের নানা প্রতিকূলতা, মানুষের সমালোচনা কিংবা সীমিত সামর্থ্য-কোনো কিছুই দমাতে পারেনি দীপিল কুমারের ফুটবলপ্রেমকে। জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি ছোট্ট চটপটির দোকানই হয়ে উঠেছে তার স্বপ্ন, আবেগ আর প্রিয় দলের প্রতি অগাধ ভালোবাসার এক ব্যতিক্রমী প্রকাশ।
দীপিল কুমারের ঠেলাগাড়িতেই সামনে এখন প্রতিদিন আশপাশের গ্রামের ফুটবলপ্রেমী ও উৎসুক মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। খেলার প্রতি এমন নিখাদ ভালোবাসা এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।’