
সলঙ্গা (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার দাদপুর দাসপাড়া গ্রামের ১০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী শিশু কর্ণ কুমার দাসের অসহায় জীবনের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সমাজের একজন হৃদয়বান ব্যক্তি। অবশেষে বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে একটি হুইলচেয়ার পেয়েছে জন্ম থেকেই হাঁটতে না পারা শিশুটি।
রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে সলঙ্গা থানার দাদপুর দাসপাড়ায় কর্ণের হাতে একটি নতুন হুইলচেয়ার তুলে দেন চান্দাইকোনার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জন্মের পর থেকেই কর্ণ কুমার দাস পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে কিংবা হাঁটতে পারে না। অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ তার কখনোই হয়নি। হাতের ভর দিয়ে চলাচল করেই কেটেছে তার শৈশব। বাবা শংকর চন্দ্র দাস পেশায় একজন সেলুন কর্মী। অল্প আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে ছেলের চিকিৎসা কিংবা একটি হুইলচেয়ার কেনার সামর্থ্য ছিল না তার। ফলে কর্ণকে দীর্ঘদিন ধরে চরম কষ্টের মধ্যেই জীবন কাটাতে হয়েছে।
সম্প্রতি কর্ণের মানবেতর জীবনের সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে সবার নজরে আসে। এরপর মানবিক উদ্যোগ নিয়ে কর্ণের পাশে দাঁড়ান চান্দাইকোনার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করে শিশুটির হাতে তুলে দেন।
হুইলচেয়ার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কর্ণের বাবা শংকর চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, “আমার ছেলের জন্য একটি হুইলচেয়ারের খুব প্রয়োজন ছিল, কিন্তু কেনার সামর্থ্য ছিল না। সংবাদ প্রকাশের পর যে মানবিক মানুষটি আমার সন্তানের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তার প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। এখন আমার ছেলে অনেক সহজে চলাফেরা করতে পারবে।”
হুইলচেয়ার পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত কর্ণও নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, এখন থেকে সে আগের তুলনায় অনেক সহজে বাইরে যেতে, মানুষের সঙ্গে মিশতে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ পাবে।
এর আগে বিষয়টি জানার পর রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান কর্ণের জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। পাশাপাশি রায়গঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইলিয়াস হাসান শেখ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে তাকে সরকারি সহায়তা ও প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন।
স্থানীয়রা বলেন, একটি সংবাদ শুধু একটি সমস্যার কথা তুলে ধরেনি, বরং একটি অসহায় শিশুর জীবনে হাসি ফিরিয়ে এনেছে। তারা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোকে এভাবেই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তাদের মতে, সময়মতো পাওয়া একটি ছোট সহায়তাও বদলে দিতে পারে একটি শিশুর পুরো জীবন।