
অনলাইন দৃশ্যপট ডেস্ক রিপোর্ট
তীব্র তাপদাহে মাঠে কাজ করা কৃষক ও শ্রমিকদের মধ্যে ওরাল স্যালাইন ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এক কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী (সিএইচসিপি)। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত নিয়ম না মেনে কম পানিতে ঘন করে ওরাল স্যালাইন পান করলে তা শরীরের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় ওই স্বাস্থ্যকর্মী জানান, প্রচণ্ড গরমে মাঠে কাজ শেষে অনেক কৃষক ও শ্রমিক কমিউনিটি ক্লিনিকে এসে দ্রুত স্যালাইন নিতে চান। কিন্তু সঠিক নিয়ম—আধা লিটার পানিতে এক প্যাকেট ওরাল স্যালাইন মিশিয়ে পান করার পরামর্শ দিলে অনেকেই ভুল বোঝেন এবং মনে করেন স্বাস্থ্যকর্মীরা ইচ্ছাকৃতভাবে স্যালাইন দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
তিনি বলেন, “কৃষক ও শ্রমিক ভাইদের রাগ বা কটু কথা আমি মেনে নিতে রাজি আছি, কিন্তু ভুল নিয়মে স্যালাইন খেয়ে তারা যেন নিজেদের ক্ষতি না করেন, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় চিন্তা।”
স্বাস্থ্যকর্মীর মতে, অনেক মানুষই জানেন না যে তারা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনি-সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন কি না। এ অবস্থায় এক গ্লাস পানিতে পুরো এক প্যাকেট স্যালাইন মিশিয়ে পান করলে শরীরে লবণের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এতে রক্তচাপ বেড়ে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত লবণের চাপ কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনি বিকলের কারণও হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “ওরাল স্যালাইন কোনো সাধারণ পানীয় বা এনার্জি ড্রিংক নয়। এটি একটি চিকিৎসা-সংক্রান্ত জরুরি উপাদান, যা নির্ধারিত নিয়ম মেনে ব্যবহার করা উচিত।”
তীব্র গরমে তৃষ্ণা মেটাতে ও শরীরকে সতেজ রাখতে তিনি সাধারণ নিরাপদ পানি ও লেবুর শরবত পান করার পরামর্শ দেন। তার ভাষ্য, বর্তমানে বাজারে লেবু সহজলভ্য ও তুলনামূলক সস্তা। তাই অপ্রয়োজনে ওরাল স্যালাইন পান না করে লেবুর শরবত ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ করাই বেশি উপকারী।
সচেতন নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গ্রামের অনেক কৃষক ও শ্রমিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন না। তাই পরিবার ও সমাজের সদস্যদের উচিত তাদের সঠিক নিয়মে ওরাল স্যালাইন ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন করা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জানানো।
তিনি মনে করেন, দেশের খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কৃষক ও শ্রমিকদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে সবার সম্মিলিত সচেতনতা জরুরি।
বিঃদ্রঃ বিস্তারিত জানতে নিকটবর্তী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকোর পরামর্শ নিন।