
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আড়ংগাইল-নিমগাছী সংযোগ সড়কের কুমাল্লু হতে চন্ডিভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কুমাল্লু, চন্ডিভোগ, মৌহার, পুল্লাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, কৃষি নির্ভর এই এলাকার মানুষজন প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়েই পায়ে হেঁটে অথবা অটোরিকশায় করে ধানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য হাটে নিয়ে যান। কিন্তু বর্তমানে রাস্তার অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ। কোনো গাড়ি একবার এই রাস্তায় প্রবেশ করলে দ্বিতীয়বার আর আসতে চায় না। ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারছেন না।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল করিম বলেন, “ধান হাটে নেওয়ার জন্য এখন কোনো গাড়ি পাওয়া যায় না। কেউ রাজি হলেও ১ মন ধান নিতে ৭০থেকে ৮০ টাকা ভাড়া চায়, যা আমাদের জন্য বহন করা কষ্টকর।”
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে হাঁটু সমান কাদা জমে যায়। ফলে রিকশা-ভ্যান তো দূরের কথা, মানুষের হেঁটে চলাচলও দুরূহ হয়ে পড়েছে। অনেক সময় যাত্রীসহ রিকশা কাদায় আটকে গেলে স্থানীয়রা ধাক্কা দিয়ে সরাতে বাধ্য হন।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চন্ডিভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। রাস্তার বেহাল দশার কারণে তাদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসী দ্রুত এই সড়কটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, “কুমাল্লু-চন্ডিভোগ সড়কটির বিষয়ে আমরা অবগত আছি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।