
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সংবাদ যখন মানুষের কথা বলে, তখন তার প্রভাবও পড়ে মানুষের জীবনেই। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সরাইদহ এলাকায় করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত দীর্ঘদিনের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোটি অবশেষে সংস্কার করা হয়েছে। বিভিন্ন গনমাধ্যমে জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় উদ্যোগে সাঁকোটির সংস্কার সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোর কারণে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগীসহ সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের দুর্ভোগ এবং একটি স্থায়ী সেতুর দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। এরপরই বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসে এবং উদ্যোগ নেওয়া হয় সংস্কারের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরাইদহ, লক্ষ্মীকোলা, খোকশাহাট, পাইকোরা, শ্যামনাই, ভূঁইয়াগাঁতীসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা ছিল এই বাঁশের সাঁকো। স্থায়ী সেতুর অভাবে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে সাঁকোটি নির্মাণ করলেও সময়ের সঙ্গে সেটি নড়বড়ে ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করতে হতো হাজারো মানুষকে।
সংবাদ প্রকাশের পর চান্দাইকোনা ইউনিয়নের বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. তরিকুল ইসলাম নিজস্ব অর্থায়ন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় সাঁকোটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন। তাঁর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য এবং এলাকাবাসীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নতুন বাঁশ সংযোজন ও প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ সম্পন্ন করা হয়।
মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আরও বেশি মানুষের নজরে আসে। মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে আপাতত যাতায়াতের সুবিধার জন্য সাঁকোটি সংস্কার করা হয়েছে। তবে এটি সাময়িক সমাধান। স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধানে এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ জরুরি।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আল আমিন বলেন, “আগে সাঁকোটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। প্রতিদিন ভয় নিয়ে পার হতে হতো। এখন সংস্কার হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। তবে আমাদের স্বপ্ন একটি স্থায়ী সেতু।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও করতোয়া নদীর এই অংশে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
তাদের প্রত্যাশা, সাঁকো সংস্কারে আপাতত স্বস্তি মিললেও এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ১০ গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। সংবাদ প্রকাশের ইতিবাচক প্রভাব যেমন একটি পরিবর্তনের সূচনা করেছে, তেমনি এখন সময় স্থায়ী