
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কারও হাতে প্ল্যাকার্ড, কারও হাতে ব্যানার। তাঁদের কণ্ঠে একটাই দাবি—মানসিক প্রতিবন্ধী এক শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত শান্ত (২৫) নামের যুবককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সকাল ১১টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলাবাসী ও ধানগড়া ইউনিয়ন ভূমিহীন সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মো. আব্দুল আওয়াল, স্বেচ্ছাসেবী মো. শরিফুল ইসলাম, জলবায়ু ও পরিবেশকর্মী ফয়সাল বিশ্বাস, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর ফারুক খান জুবায়ের, ধানগড়া ইউনিয়ন ভূমিহীন সমিতির সহসভাপতি রিনা বেগম এবং পাঙ্গাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন হাসিনুর।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, “গত ২৬ এপ্রিল আমার মেয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে পূর্ব লক্ষীকোলা গ্রামের বেল্লাল হোসেনের ছেলে শান্ত তাকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায়। পরে আমার মেয়ের সঙ্গে জঘন্য ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা করাতে করাতে আমরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। এক মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও অভিযুক্ত এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। বিভিন্নভাবে আপসের প্রস্তাব ও চাপ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আমি কোনো আপস চাই না। আমি আমার মেয়ের বিচার চাই।”
তিনি আরও বলেন, “একজন অসহায় প্রতিবন্ধী শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটার পরও যদি অপরাধী ধরা না পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় বিচার পাবে? আমি প্রশাসনের কাছে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”
বক্তারা বলেন, ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁরা দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বিচার চাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে চাপের মুখে রাখা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কোনো আপসের সুযোগ নেই বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা অভিযুক্তের ফাঁসি ও দ্রুত বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”