
ন্যাশনাল ডেস্ক
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় শ্বশুরবাড়ি থেকে বিএম মাহমুদুল ইসলাম নোবেল নামের পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা ও শ্বশুর ঝুনু শেখকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পাইকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামের শ্বশুর ঝুনু শেখের বাড়ির পুকুরপাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
বিএম মাহমুদুল ইসলাম নোবেল খাগড়াছড়ির মহালছড়ি এপিবিএনে কর্মরত ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিজয়পাশা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার সরকারি কাজে গোপালগঞ্জে আসেন মাহমুদুল। কাজ শেষে শ্বশুরবাড়িতে যান। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পাইকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামের শ্বশুর ঝুনু শেখের বাড়ির পুকুরপাড়ে স্থানীয় কয়েকটি শিশু মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। পরে নিহতের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পুকুরপাড় থেকে মরদেহটি তুলে নিয়ে রাস্তার পাশে একটি ভ্যানের ওপর রাখেন।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ের পর থেকেই ছুটিতে এলে মাহমুদুল তার নিজের বাড়ি পাশের গ্রাম বিজয়পাশা না গিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই অবস্থান করতেন।
নিহতের পরিবারের স্বজনদের অভিযোগ, স্ত্রীর পরকীয়ার কারণে মাহমুদুল ইসলামের সঙ্গে পারিবারিক কলহ ও ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকত। মূলত স্ত্রীর মানসিক চাপ ও পারিবারিক জটিলতার কারণেই নিজ বাড়িতে না গিয়ে তাকে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করতে হতো বলে দাবি তাদের। এ মৃত্যুর ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা ও শ্বশুর ঝুনু শেখকে আটক করেছে পুলিশ।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।