
শ্যামল হালদার,রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেফটি ট্যাংকে মরা মুরগি ফেলার ঘটনায় তীব্র দুর্গন্ধে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। দুর্গন্ধের কারণে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে অবস্থিত টয়লেটের সেফটি ট্যাংকের ঢাকনা ভেঙে সেখানে দুর্বৃত্তরা মরা মুরগি ফেলে রাখে। এরপর থেকেই পুরো স্কুলজুড়ে অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেহেলী খাতুন রায়গঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে চলমান পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী নাকে রুমাল চেপে পরীক্ষা দিচ্ছে। তারপরও দুর্গন্ধে মাথা ঘোরা ও বমির মতো সমস্যায় পড়ছে তারা।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, “দরজা-জানালা বন্ধ করেও দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। ক্লাস করতে খুব কষ্ট হচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের আশপাশে অন্তত ৬ থেকে ৭টি মুরগির খামার রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, খামারের কোনো অসাধু ব্যক্তি মৃত মুরগিগুলো সেফটি ট্যাংকে ফেলে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে অভিভাবক আখি খাতুন ও সিদ্দিক প্রামাণিক বলেন, “দুর্গন্ধের কারণে সন্তানরা স্কুলে যেতে চায় না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. সেহেলী খাতুন বলেন, “থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মরা মুরগির দুর্গন্ধে বিদ্যালয়ে অবস্থান করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান খান বলেন, “প্রশাসন যদি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করার সাহস পাবে না।”
অভিযোগের বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার এসআই শাহীন আলম মুঠোফোনে জানান, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”