
মো: আব্দুর রহীম মিঞা, ভূঞাপুর উপজেলা প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা ১৯৭৪ সালের ৭ আগস্ট গোপালপুর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভূঞাপুর স্বতন্ত্র থানার মর্যাদা লাভ করে। ১৯৮৩ সালের ২৪ মার্চ ভূঞাপুরকে উপজেলা ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৪ সালের ২০ মার্চ ভূঞাপুরে পৌরসভা স্থাপিত হয়। সেই ভূঞাপুর পৌরশহরের প্রাণকেন্দ্রে ঘাটান্দী গ্রামের ঐতিহ্যবাহী খন্দকার পরিবারে জন্ম নেওয়া খন্দকার জুলহাস এখন ভূঞাপুরবাসীর কাছে এক পরিচিত নাম। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করে ভূঞাপুর উপজেলা যুব দলের নেতৃত্বে আসীন। তিল তিল করে বেড়ে উঠা রাজনৈতিক সংগঠন পরিচালনা করে নিজের নেতৃত্বের গুনাবলী দিয়ে দলীয়ভাবে নিজেকে শক্ত অবস্থানে পৌছে দিয়েছেন্।
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা পরিষদে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে তিনি উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় সমর্থন নিজের অনুকূলে আসবেন এমনটি আশাও করেন তিনি। বিএনপির প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে তিনি নিজেকে দলীয় কর্মকান্ডে শতভাগ উজার করে দিয়েছেন। দীর্ঘ ১৭ টি বছর বিএনপি যখন বিরোধী দল হিসাবে নির্যাতিত তখনও তিনি শতভাগ দলের সাথে থেকে কাজ করেছেন। দলের কাজ করতে গিয়ে আওয়ামীলীগ দুশাসনে যাতাকলে পিষ্ট হয়েছেন,জেলও খেটেছেন বহুবার। পৃথক সংসারে তখন পরিবারের চোখে মুখে অন্ধকার, তখনও দলের হাল ছাড়েননি খন্দকার জুলহাস। এখন দল ক্ষমতায়। দলে নানা সুবিধাবাদী লোক উপজেলা পরিষদে নির্বাচনে প্রার্থী হবে , দলীয় মনোনয়ন চাইবে। তবে এলকাবাসীর দাবি দূর্দিনে নির্যাতিত, ত্যাগী নেতারাই দলীয় সমর্থন পাক এমনটাই আশা তাদের।
এদিকে তরুণ সমাজকে সঙ্গে নিয়ে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন খন্দকার জুলহাস। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা ও খেলাধুলায় তরুণদের উৎসাহ প্রদান এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে সম্পৃক্ততার কারণে ইতোমধ্যেই তিনি ভূঞাপুরের সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।
ভূঞাপুরে যুবদলে নেতাকর্মীরাসহ এলাকার জনগন মনে করেন, একজন উদ্যমী ও কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে খন্দকার জুলহাস সবসময় তৃণমূলের মানুষের কথা ভাবেন। সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকার কারণে দিনদিন তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে গণসংযোগকালে তিনি মানুষের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছেন। ভূঞাপুর উপজেলা যুবদলের নেতুত্বে আসার পর থেকে যখন যে অবস্থায় থাকুক না কেন যুবদলের কোন নেতা কর্মীর কোন সমস্যা মনে করলে সেখানেই ছুটে যান ত্বরীত গতিতে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সরগরম হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অঙ্গন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের পদচারণায় জমে উঠছে মাঠের রাজনীতি। এমন সময় ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার জুলহাস। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে পুঁজি করে তিনি উপজেলার মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছেন, নিচ্ছেন সাধারণ মানুষের খোঁজখবর, শুনছেন তাদের সুখ-দুঃখের কথা।
রাজনীতির মাঠে খন্দকার জুলহাস নতুন কোনো নাম নন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছেন বলে জানান স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বর্তমানে যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তরুণদের সংগঠিত করা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তিনি আলোচনায় আসেন।
আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে খন্দকার জুলহাস বলেন, “রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার বিষয় নয়, মানুষের সেবা করার একটি মাধ্যম। আমি চাই সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে। বিশেষ করে যুবসমাজকে মাদক, বেকারত্ব ও হতাশা থেকে বের করে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে কাজ করতে চাই।”
তার মতে, উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও উন্নয়নের অংশ। নির্বাচিত হলে এসব খাতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
এদিকে, তার প্রার্থিতা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে তিনি ভোটারদের কাছে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। স্থানীয়রা বলছেন, একজন তরুণ ও সক্রিয় নেতৃত্ব হিসেবে খন্দকার জুলহাস ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
তবে নির্বাচনকে ঘিরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জনগণই। ভোটের মাঠে কে কতটা গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। কিন্তু এরই মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে খন্দকার জুলহাসের নাম রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, আমি নির্বাচিত হলে তরুণদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, খেলাধুলা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করতে চান। রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও উন্নয়নের মাধ্যমে ভূঞাপুরকে এগিয়ে নেওয়াই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য।
এলাকার জনগনও আশা করেন তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক এবং নির্বাচিত হয়ে ভূঞাপুরে উন্নয়নের ভূমিকা রাখুক এই প্রত্যাশা।