
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানার নলকা ইউনিয়নের চর ফরিদপুর গ্রামে এক গৃহবধূর সঙ্গে কথিত পরকীয়ার অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক দপ্তরিকে আটক করে গণধোলাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক বসিয়ে ওই দপ্তরিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে চর ফরিদপুর গ্রামের মুক্তারের স্ত্রী শম্পার সঙ্গে দীর্ঘদিনের কথিত অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে একই এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি আরিফুল ইসলাম ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাকে আটক করেন। পরে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে আরিফুল ইসলাম ও ওই গৃহবধূকে মারধর করেন বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘটনার পর শনিবার (২২ আগস্ট) উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে আরিফুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার জন্য তাকে সতর্ক করা হয়।
সালিশে ওই গৃহবধূর স্বামী মুক্তারের সঙ্গে তার স্ত্রীর বিবাহবিচ্ছেদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে। এ ছাড়া ওই গৃহবধূর ব্যাংক হিসাবে থাকা ৩ লাখ টাকা তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য দেওয়ার বিষয়ে সালিশে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, স্থানীয়ভাবে সালিশ বসিয়ে জরিমানা, বিবাহবিচ্ছেদ ও অর্থ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এসব সিদ্ধান্তের আইনগত বৈধতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম আলী বলেন, “এ বিষয়ে আমি অবগত নই। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।