
খ ম জায়েদ হোসেন ,নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর গ্রামে পুকুরের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক যুবক নিহতের ঘটনায় প্রতিপক্ষের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। হামলার ভয়ে ও গ্রেপ্তার এড়াতে পুরো এলাকা এখন প্রায় পুরুষশূন্য। এমনকি নারী, বৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে বিপাকে ভুক্তভোগী অনেক পরিবার। আজ তারা অসহায় – নিরুপায়।
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর গ্রামে দুই পক্ষের সৃষ্ট সংঘর্ষে নাজিমউল্লাহ (২৫) নামে এক যুবক নিহত হওয়ার জেরে প্রতিপক্ষের বাড়ি ঘর ব্যাপক হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, গত শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর জুম্মা নামাজ শেষে বুড়িশ্বর গ্রামের দুই প্রভাবশালী নয়া বাড়ী গোষ্ঠী ও ডাইলা বাড়ির গোষ্ঠীর মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নাজিমউল্লাহ ২৫ নিহত হওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় সংঘর্ষের পর থেকেই প্রতিপক্ষের সমর্থকরা দল বেধে আর এক প্রতিপক্ষের বাড়ি ঘর হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা,লুটপাট ও ভাংচুর করে এবং ঘরে থাকা মুল্যবান সকল জিনিসপত্র লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলার আতঙ্কে অনেকই বাড়ি ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, বুড়িশ্বর গ্রামের কামাল মিয়ার সঙ্গে দ্বীন ইসলাম মিয়ার জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। এরই জেরে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। এতে নাজিমউল্লাহ (২৫) নামের এক যুবক নিহত হন। নাজিবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন প্রতিপক্ষের বাড়িতে চড়াও হয়।
সরেজমিনে গ্রামে গিয়ে দেখা যায় এক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র। পথে পথে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ভাঙা কাচ ও লন্ডভন্ড আসবাবপত্র। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, নিহতের পরিবারের লোকজনের নেতৃত্বে দফায় দফায় অন্তত ১৫টি বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে। ঘরের মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। কোটি টাকারও বেশি সম্পদ হারিয়ে তারা এখন নিঃস্ব।
ভয়ে কোনো পুরুষ বাড়িতে থাকতে পারছেন না। এমনকি নিরাপত্তাহীনতায় গ্রাম ছাড়ছেন নারী ও শিশুরাও।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত নাসিরনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহান আলী জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধে একজন নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে রাতের অন্ধকারে কিছু বাড়িতে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এই গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, ২১ বছরের চাকুরী জীবন আর ১৫ বছরের সংসার জীবনে তিলে তিলে গড়া স্বপ্ন সব শেষ করে দিল হায়েনারা। যে মারা গেছ তার পরিবার যদি এই সম্পদ নিয়ে যেত আমার বিন্দু পরিমান আফসোস হতনা। কিন্তু উড়ে এসে জুরে বসা কিছু বসন্তের কোকিল এটা ভোগ করবে, ভাবতেই ঘেন্না লাগতেছে।