
দৃশ্যপট ডেস্ক রিপোর্ট
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের পাঙ্গাসী ইউনিয়নের হাট পাঙ্গাসী স্কুল এন্ড কলেজের পিছনে ঝুলছে হাট পাঙ্গাসী পুলিশ ফাঁড়ির নিজস্ব জমির সাইনবোর্ড ।
জমির চারদিকে করা হয়েছে বাউন্ডারি ওয়াল।ফাঁড়ির নামে নিয়োগ দেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় জনবলও। তবুও শুধু একটি স্থায়ী ভবনের অভাবে বন্ধ আছে ফাঁড়ির কার্যক্রম। ফলে দীর্ঘ দিন ধরে ওই এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। জমি ও জনবল থাকলেও নেই ভবন ।
সরেজমিনে জানা গেছে, হাট পাঙ্গাসী ও এর আশপাশের বিশাল এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৯০ দশকের দিকে সরকার এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ির অনুমোদন দেয়। ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জমিও বরাদ্দ করা হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে জনবলও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অবকাঠামো অর্থাৎ ফাঁড়ির নিজস্ব কোনো ভবন না থাকায় নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারছেন না। বর্তমানে তারা রায়গঞ্জ থানার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। অস্থায়ীভাবে রায়গঞ্জ থানায় অবস্থান করলেও পূর্ণাঙ্গ পুলিশি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী, বিঘ্নিত হচ্ছে নিরাপত্তা। হাট পাংগাসি এলাকাটি ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে প্রতি সপ্তাহে দুদিন হাট বসানো হয়। গরু ছাগল কেনাবেচার জন্য এই হাটের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। হাট বসায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফাঁড়িটি কার্যকর না হওয়ায় এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড
বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে রায়গঞ্জ থানা থেকে পুলিশ আসতে অনেকটা সময় লেগে যায়, যার ফলে অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।
রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি খায়রুল ইসলাম বলেন, এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য
দ্রুত এই ফাঁড়ির ভবন নির্মাণ দরকার। “আমাদের এখানে পুলিশ ফাঁড়ি দরকার এটা অনেক দিনের দাবি। জমি-জনবল সবই আছে, শুধু ভবনটা হচ্ছে না দেখে আমরা সেবা পাচ্ছি না। দ্রুত ভবনটি নির্মাণ হলে আমরা শান্তিতে ব্যবসা করতে পারতাম।”
সিরাজগঞ্জ সদর থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক বলেন, যেহেতু এখানে কোটি কোটি টাকার গরু-ছাগল বেচাকিনি হয় সেখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি থাকলে ব্যবসায়ী সহ সব শ্রেণীর মানুষের নিরাপত্তা বলয় তৈরি হতো।
ধানগড়া চৌরাস্তা থেকে কাঠেরপুল পর্যন্ত সিএনজি চালিত অটো রিক্সা চালান মোঃ হারেজ আলী। তিনি বলেন মাঝেমধ্যেই এই রাস্তায় ছিনতাই এর ঘটনা ঘটে। পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম সচল থাকলে ছিনতাইকারীরা আর রাস্তায় আসতে সাহস পেত না। যাত্রীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারতেন।
হাট পাঙ্গাসীর বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান বলেন, ৩৫ বছর পূর্বে ফাঁড়ির অনুমোদন হয়েছে। অথচ এখনো পর্যন্ত সেখানে একটি ভবন হলো না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়াটি দাপ্তরিক পর্যায়ে রয়েছে। অর্থ বরাদ্দ ও প্রশাসনিক অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাট পাংগাসি পুলিশ ফাঁড়ির নিজস্ব ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে এমনটা আশা করছি।
স্থানীয় সচেতন মহলের আশা, জনস্বার্থে সরকার দ্রুত এই ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেবে এবং হাট পাঙ্গাসী দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পুলিশি সেবা পেতে শুরু করবে।