
বিশেষ প্রতিনিধি। দৃশ্যপট
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার কদমতলি গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী সাবিনা খাতুনের জীবন ছিল দুঃসহ সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। ক্রাচে ভর দিয়ে চলা এই নারী তিন বছর আগে হারান তাঁর ১১ বছরের ছেলে সিয়ামকে। এরপর মাত্র তিন মাস আগে মারা যান পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি স্বামী এলাহি ভুইয়া।
এরপর দুই সন্তান—৯ বছরের মারুফা ও ৩ বছরের আলিফকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে যান সাবিনা খাতুন। সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে না পারার অসহায় আর্তনাদ উঠে আসে মামুন বিশ্বাসের ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিওতে। সেই ভিডিও প্রকাশের পরই দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ এগিয়ে আসেন সহায়তার হাত বাড়িয়ে।
এই মানবিক উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন রেদোয়ানা আপু। সংগৃহীত অর্থের পাশাপাশি তিনি পরিবারটির জন্য প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে নিয়মিত সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
তাঁর এই উদ্যোগকে সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
মামুন বিশ্বাস কেবল সাময়িক সহায়তা দিয়ে থেমে যান না বলেও জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি পরিবারকে কীভাবে স্বাবলম্বী করা যায়, সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ করেন তিনি।
এখন অনেকেই অপেক্ষা করছেন, অসহায় এই পরিবারটির ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে মামুন বিশ্বাস কী ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
মানবিক কার্যক্রমে মামুন বিশ্বাসের অন্যতম বড় শক্তি তাঁর স্বচ্ছতা। সহায়তার প্রতিটি টাকার হিসাব তিনি বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেন বলে জানান তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা। এ কারণেই দেশ ও প্রবাসের মানুষ তাঁর আহ্বানে নির্ভয়ে সাড়া দেন।
এই মানবিক উদ্যোগ সফল করতে দেশ-বিদেশের অসংখ্য হৃদয়বান মানুষ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে সকল দাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
অনেকের মতে, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে—সদিচ্ছা, সততা ও মানবতা থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা চায়।
তথ্য সূত্রঃ কাজল দাস,সমাজ সেবক।