
ক্রীড়া অনলাইন ডেস্ক
মাঠে তিনি বল কাড়েন, আর এবার কাড়লেন মানুষের মন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইংলিশ ফুটবলার হামজা চৌধুরী যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার শিশুদের জন্য সংগ্রহ করেছেন এক লাখ পাউন্ডেরও বেশি, টাকায় রূপান্তর করলে অঙ্কটা দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ।
এ খবর হামজা চৌধুরী নিজেই জানিয়েছেন ফেসবুকে, সরল ও বিনয়ী একটি পোস্টে। শুরুটা ছিল কৃতজ্ঞতার শব্দ দিয়ে, ‘আলহামদুলিল্লাহ, গাজার শিশুদের জন্য আমরা এক লাখ পাউন্ডেরও বেশি তহবিল সংগ্রহ করতে পেরেছি।’
এক লাখ পাউন্ড বড় অঙ্ক, কিন্তু হামজার কথায় অহংকারের ছিটেফোঁটাও নেই। তার ভাষায় সবটাই ‘স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার’ গল্প। সেই স্বপ্নের পেছনে আছে একটি আয়োজন। উপস্থিত অতিথিরা দিয়েছেন সময়, বাড়িয়েছেন হাত, আবার কেউ দিয়েছেন শুধু পাশে থাকার উষ্ণতা। হামজা সবাইকে জানিয়েছেন আন্তরিক ধন্যবাদ। আলাদা করে নাম নিয়েছেন নুজুম স্পোর্টসের। তাদের সম্পর্কে এই ফুটবলারের কথা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অক্লান্ত পরিশ্রম করে তারা এই ভাবনাকে বাস্তব করেছে।
অর্থ যাবে কোথায়, সে কথাও পরিষ্কার। ‘চিলড্রেন নট নাম্বারস’ নামের সংস্থাটি গাজায় সরাসরি মাঠপর্যায়ে শিশুদের পাশে দাঁড়ায়। হামজা লিখেছেন, এই শিশুদের অনেকের কাছে বেঁচে থাকার একমাত্র আশা চিকিৎসার জন্য নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারা। সংগৃহীত প্রতিটি পাউন্ড তাই খরচ হবে সেই জরুরি স্থানান্তরে, যাদের বেশি প্রয়োজন।
ভেবে দেখুন, একটি শিশু, হয়তো ক্লান্ত চোখ আর ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে অপেক্ষা করছে একটি নিরাপদ বিছানার। তার কাছে ‘মেডিকেল ইভাকুয়েশন’ কোনো কঠিন ইংরেজি শব্দ নয়, বরং আরেকটা সকাল দেখার প্রতিশ্রুতি। হামজার পাঠানো অর্থ সেই প্রতিশ্রুতির পথে এক ধাপ এগিয়ে দিল। সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া বোধহয় পোস্টের মাঝের অংশটুকু। এত বড় সাফল্যের পরও তিনি থেমে গেছেন বিনয়ে। লিখেছেন, ‘অল্প সময়ে যা অর্জিত হয়েছে তাতে আমি বিনয় ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, এত বিশাল কষ্টের সামনে এ শুধু সামান্য অবদান। আরও অনেক কিছু করার বাকি।’ তবু এই ফুটবলারের বিশ্বাস, প্রতিটি প্রচেষ্টা, যত ছোটই হোক, একটি পরিবর্তন আনতে পারে। এই এক বাক্যে যেন লুকিয়ে আছে মানবতার পুরো দর্শন। সাগর ভরে ওঠে বিন্দু বিন্দু জলে। শেষ করেছেন তিনি প্রার্থনায়। আল্লাহ যেন এই প্রচেষ্টা কবুল করেন, ফিলিস্তিনের ভাইবোনদের কষ্ট দূর করেন, তাদের শক্তি ও ধৈর্য দেন, আর এনে দেন স্থায়ী শান্তি।
এদিকে মাঠের ডাকও আসন্ন। আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকায় শুরু হচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। লাল-সবুজের জার্সিতে খেলতে এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের ঢাকায় আসার কথা ৮ বা ৯ নভেম্বর। ক্লাবের ব্যস্ততায় ভুটানের বিপক্ষে তিনি খেলতে পারবেন না। গ্যালারির করতালির আগেই হামজা জিতে নিয়েছেন অন্য এক জয়। যে জয়ের স্কোরবোর্ড নেই, আছে শুধু একটি শিশুর বেঁচে থাকার আশা।