
সোহেল খান দূর্জয়,নেত্রকোনা প্রতিনিধি
উজান থেকে নেমে আসা এক দিনের আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় ১২ কিলোমিটার কাঁচা ও পাকা গ্রামীণ সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে শুধু সড়ক খাতেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। একই সঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আধাপাকা ভবনের অর্ধেক অংশ। পানি নেমে গেলেও বিভিন্ন স্থানে সড়ক ধসে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় কয়েকটি এলাকায় এখনো যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই দিবাগত রাত ২টার দিকে উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে উপজেলার সীমান্তবর্তী পাঁচটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ২১ জুলাই থেকে পানি কমতে শুরু করে এবং পরদিন নদীর পানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তবে ঢলের তীব্র স্রোতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এলজিইডি সূত্র জানায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে খারনৈ ইউনিয়নের শ্রীপুর, গজারমারি ও নলচাপড়া এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার পাকা সড়কে। এছাড়া নাজিরপুর ইউনিয়নের আনন্দপুর-দিলোরা এবং রংছাতি ইউনিয়নের বরুয়াকোনা, খাসপাড়া ও পাঁচগাঁও এলাকার আরও প্রায় দুই কিলোমিটার পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে এবং ধসে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এসব সড়ক সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম।
সরেজমিনে গজারমারি ও শ্রীপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের একাধিক স্থানে গভীর গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা বিকল্প পথ ব্যবহার করে চলাচল করছেন। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনেও চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা পাঞ্জর আলী বলেন, “গজারমারি ও শ্রীপুর এলাকার পাকা সড়কের বিভিন্ন অংশ পাহাড়ি ঢলে ধসে গেছে। এখন পায়ে হেঁটে চলাচল করা গেলেও কোনো যানবাহন চলতে পারছে না। দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। প্রতিবছর একইভাবে ক্ষতি হওয়ায় পিচঢালাইয়ের পরিবর্তে আরসিসি সড়ক নির্মাণ করা প্রয়োজন।”
সড়কের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। নদীতীরবর্তী গজারমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আধাপাকা ভবনের অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় ভাঙনে গভীর খাদ সৃষ্টি হয়েছে। ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে গভীর নলকূপ অচল থাকায় নিরাপদ সুপেয় পানি ব্যবহারে দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আশরাফ উদ্দিন জানান, ভবনের একটি অংশ নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় একটি শ্রেণির পাঠদান পাশের একটি বাড়িতে পরিচালনা করা হচ্ছে। অন্য শ্রেণিগুলোর ক্লাস বিদ্যালয়ে চললেও বিদ্যুৎ না থাকায় নলকূপ ব্যবহার করা যাচ্ছে না, ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
কলমাকান্দা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মইনুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢলে উপজেলার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পাকা এবং সাত কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে সড়ক খাতে প্রায় ৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জনদুর্ভোগ কমাতে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে স্থানীয়ভাবে জরুরি ভিত্তিতে সীমিত পরিসরে সংস্কারকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।