
নলডাঙ্গা (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা এলাকায়, একটি অদ্ভুত ও বিরল প্রজাতির প্রাণী দেখতে পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর), রাত সাড়ে আটটার দিকে, খাজুরা উজান পাড়া নিবাসী, খাজুরা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মো: মাহাবুবুর রহমান, নিজ বাড়ির সামনের রাস্তায় নিজেই প্রাণীটিকে চলাচল করতে দেখেন। সম্পূর্ণ অপরিচিত এবং দেখতে কিছুটা ভিন্নধর্মী এই প্রাণীটিকে ঘিরে, স্থানীয় লোকজনের মধ্যে প্রথমে দারুণ কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে,ঢাকা কলেজ থেকে প্রাণিবিজ্ঞানে অনার্স সম্পন্ন করা এবং বর্তমানে ফিশারিজ বিভাগে মাস্টার্সরত শিক্ষানবিশ মো: শামীম হোসেনের সাথে কথা বলে জানা যায়, এটি কোনো বিষাক্ত সাপ বা জোঁক নয়, বরং এটি ‘হ্যামারহেড ওয়ার্ম’ বা হাতুড়ি-মাথা ফ্ল্যাটওয়ার্ম প্রজাতির একটি স্থলজ চ্যাপ্টা কৃমি। বৈজ্ঞানিকভাবে এটি Bipalium গণের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি Platyhelminthes পর্বের Geoplanidae গোত্রের একটি প্রাণী। প্রাণীটির মাথা দেখতে অনেকটা হাতুড়ি বা কোদালের মতো প্রশস্ত এবং এর শরীর দীর্ঘ, সরু ও পিচ্ছিল প্রকৃতির। খুবই কম দেখা যায় এদের; সাধারণত বৃষ্টির পর, পচা গাছের গুড়ি বা ময়লার স্তুপ থেকে, এরা বাইরে বেরিয়ে আসে।
প্রাণীটির খাদ্যাভ্যাস ও প্রকৃতি সম্পর্কে এই শিক্ষানবিশ জানান, এদের খাবার প্রধানত কেঁচো, এছাড়া শামুকসহ কিছু অমেরুদণ্ডী প্রাণী খেয়ে এরা জীবন ধারণ করে। তবে মানুষের জন্য, সচরাচর এরা তেমন কোনো বড় ক্ষতি করে না। কিন্তু এর শারীরিক গঠনে কিছু ঝুঁকি রয়েছে; কিছু হ্যামারহেড ওয়ার্মের দেহের মিউকাসে টেট্রোডোটক্সিন (Tetrodotoxin) নামক নিউরোটক্সিন পাওয়া গেছে, যা স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রমে বাধা দিতে পারে।
তাই সুরক্ষার খাতিরে, এগুলো খালি হাতে ধরা উচিত নয়। যদি ভুলবশত কেউ ধরে ফেলে, তবে অবিলম্বে হাত ভালোভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এছাড়া শিশু ও পোষা প্রাণীকে, এটি মুখে দেওয়া থেকে কঠোরভাবে বিরত রাখতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এদের দেহ কেটে টুকরো করা উচিত নয়, কারণ এদের কিছু প্রজাতি, খণ্ডিত অংশ থেকে নতুন প্রাণী তৈরি করতে সক্ষম। এমতাবস্থায়, এ ধরনের অপরিচিত বা অদ্ভুত প্রাণী লোকালয়ে চোখে পড়লে, আতঙ্কিত না হয়ে, সাবধানে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন বিবিসিএফ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও সবুজ বাংলার সাধারন সম্পাদক মোঃ ফজলে রাব্বী জানান,এই প্রাণীটি হাতুড়ি-মাথা কৃমি। এই প্রাণিকে মারতে চাইলে রক্তাক্ত, ছিন্নভিন্ন, থ্যাতলা করলেও এ মরবে না। টুকরো থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ও নতুন একটি পূর্ণাঙ্গ কৃমি তৈরি হবে। ছোট একটি অংশও কয়েক দিনের মধ্যে একটি নতুন কৃমিতে পরিণত হওয়ার ক্ষমতা রাখে।